• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের তথ্য

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির বিপরীতে নতুন মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনার কার্যকারিতা আবারও ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই বর্তমানে কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এসব ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এখনো মোবাইল লঞ্চারের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তর ও কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি উৎক্ষেপণ করতে পারছে। মাত্র তিনটি ঘাঁটি এখনো পুরোপুরি অকার্যকর রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাব বলছে, ইরান তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ধরে রেখেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ—দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রই রয়েছে। এছাড়া দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি সচল অবস্থায় ফিরেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্য সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ টমাহক, প্যাট্রিয়ট ও অন্যান্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ফলে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

১৩ মে ২০২৬, ০৭:১৭পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।