• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

রাষ্ট্রের ক্রান্তিকালে দেশ ও জনগণের পাশে বিএনপি

রাষ্ট্রের ক্রান্তিকালে দেশ ও জনগণের পাশে বিএনপি

সর্দার এম জাহাঙ্গীর হোসেন

১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যগণ নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ ভয়াবহ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটে নিমজ্জিত হয়। দেশজুড়ে নেমে আসে অরাজকতা, নিরাপত্তাহীনতা, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা—সমগ্র জাতি তখন এক মহা অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে ১৯৭৭ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটে। তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটান। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সূচনা হয়।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী, উদারপন্থী ও বহুমতের গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি দ্রুতই জনগণের আস্থা অর্জন করে। শেখ মুজিবের একদলীয় বাকশালের পতনের পর বিএনপি সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, তৈরি পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম অর্জন করে, কৃষিতে বিপ্লব ঘটে, ব্যাপক খাল খনন ও সেচব্যবস্থা চালু হয়, রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি পায় এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়।

তবে তাঁর হত্যার পর দেশে পুনরায় স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর একদলীয় শাসন চালান। এ সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যায় এবং অবশেষে এরশাদের পতন ঘটিয়ে ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক নির্বাচন ফিরিয়ে আনে। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করে দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে।

যদিও ১৯৯৬ সালে প্রহসনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, পরে ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করে। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত মঈন-ফখরুদ্দিন সরকার গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন চালিয়েছে। এ সময়ে শত শত নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হন, হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।

অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারত পালাতে বাধ্য হন। দেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং তারা অঙ্গীকার করে যে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও কিছু ষড়যন্ত্র চলছে যাতে নির্বাচন বানচাল করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা যায়।

এ ক্রান্তিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি গণতন্ত্রকামী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করছে। আশা করা যায়, আগামী নির্বাচনে জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে এবং বিএনপি আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

রাষ্ট্র ও জনগণের এই ক্রান্তিকালে বিএনপিই পারে দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে।
শুভ হোক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের দল বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
শুভকামনা অবিরাম।

লেখক 
সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (চায়না) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি
সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ

৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৪৯পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।