বৃদ্ধি পেয়েছে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থসেবার মান : গবেষণা
কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বৃদ্ধি পেয়েছে কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসমূহের জবাবদিহিতা এবং সেবার মান। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং এর পার্টনার সংস্থা অপরাজেয় বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গতকাল রবিবার ঢাকার একটি সম্মেলন কক্ষে এই গবেষণা ফলাফল নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, “ওয়াই-মুভস” প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের ২৬টি কার্যকর কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের উপর সংস্থা দুইটি কমিউনিটি স্কোরকার্ড জরিপ পরিচালনা করে। মোট ৮৭৬ জন কিশোর-কিশোরী এই জরিপে অংশ নেন, যাদের মধ্যে ৫৬৫ জন কিশোরী এবং ৩১১ জন কিশোর।
স্থানীয় এনজিও ইয়েস বাংলাদেশ-এর সহায়তায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী কিশোর-কিশোরী এবং সেবাপ্রদানকারীদের সম্পৃক্ত করে ২০২১ সালের মে এবং নভেম্বর মাসে এই স্কোরকার্ড জরিপ চালানো হয়। এই জরিপে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।
ওয়াই-মুভস প্রকল্প সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাজিয়া সুলতানা। স্কোরকার্ড ফলাফলের উপর সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন নীলুফার নার্গিস পূর্বাশা। তিনি বলেন, স্কোরকার্ড জরিপের মধ্যে প্রাপ্ত ফলাফল মতে, জেলা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে সেবাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে এই সময়ে। জরিপে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীরা কেন্দ্রের বিশ্রামাগার, নিরাপদ ও সুপেয় পানি এবং মেয়ে ও ছেলেদের জন্য পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে ঢাকার মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ লালমনিরহাট, নীলফামারি, নওগাঁ, ঝালকাঠির মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা অনুপস্থিত পাওয়া যায়। একই চিত্র কক্সবাজারের বাহারসরা, যশোরের সাগরদাঁড়ি, কুড়িগ্রামের বারুবাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শরীফ।
এসময় তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরী এবং যুবদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা একটি নতুন সংযোজন। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য- কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। যার যার অবস্থা থেকেই ভূমিকা পালন করতে হবে। যার যার অবস্থা থেকেই ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিজিএফপি’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. তৃপ্তিবালা বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ও পথে যথাযথ তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড এবং নির্দেশনা বোর্ড নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আমাদের অঙ্গিকারবদ্ধ হতে হবে।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর আফরোজ মহল বলেন, নাগরিকদের এবং বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করে চলা সকলের দায়িত্ব রয়েছে। স্থানীয় সরকারের সাথে আরো শক্তিশালীভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আমরা আগামী ১০ বছর এই বিষয়ে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা একসংগে কাজ করার মাধ্যমে এই পথে এগিয়ে যাবো। শিশু ও অভিভাবকদের কাছে আমাদের কাজ নিয়ে আমরা পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছি।
অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর এসআরএইচআর থিমের লিড ড. ফেরদৌসি বেগম এর সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন দেশের নানা এলাকা থেকে আসা কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কর্মরত এনজিও প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন- অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. মনজুর হোসেন।
এবি/এসএন