কঠোর অবস্থানে বিটিআরসি
দেশে দুই দিনে ৮২ হাজার অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট বন্ধ
প্রতিকী ছবি
অবশেষে দীর্ঘদিনের ঘোষণা শেষে শেষে গত দুই দিনে প্রায় ৮২ হাজার হ্যান্ডসেট বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টারে (এনইআইআর) নিবন্ধন না থাকায় ৮১ হাজার ৮৬৮টি মোবাইল হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে যুক্ত করেনি বিটিআরসি। গত শনিবার থেকে অনিবন্ধিত মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধের কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি।
বিটিআরসির একটি সূত্র জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টারে (এনইআইআর) নিবন্ধন না থাকায় শুক্রবার থেকে দেশে প্রায় ৮১ হাজার ৮৬৮টি মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
বিটিআরসি প্রকাশিত তথ্য বলছে, গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার হ্যান্ডসেট ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টারে (এনইআইআর) যুক্ত হয়েছে। নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার জন্য অনিবন্ধিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের মালিকরা বিটিআরসির ওয়েবসাইটে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তাদের ১২ ঘণ্টার সময়সীমা বেধে দেয়া হচ্ছে।
তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সক্রিয় সব মোবাইল ফোন ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটির (আইএমইআই) ডাটাবেজে (এনইআইআরে) নিবন্ধন নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে। গত ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এবং গত ১ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গভাবে এনইআইআরে নিবন্ধন চালু হয়েছে।
এদিকে বিটিআরসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য বলছে, কেউ নতুন মোবাইল ফোন দিয়ে সেলুলার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে, ফোনটি নিবন্ধিত কিনা তা জানিয়ে হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীকে বার্তা দেবে বিটিআরসি। সেই বার্তায় যদি মোবাইল ফোনটি অনিবন্ধিত বলে জানানো হয়, তবে তারা বিটিআরসি ওয়েবসাইটে (neir.btrc.gov.bd) গিয়ে ফর্ম পূরণ করে নিবন্ধন করতে পারবে।
এছাড়া হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি ফোনের বিক্রয় রসিদ, ব্যবহারকারীর পাসপোর্ট অথবা এনআইড নম্বর প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা। তবে নতুন মোবাইল কেনা ব্যক্তিরা KYD (স্পেস) ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই মোবাইলটি নিবন্ধিত কিনা তা জানতে পারবেন। আইএমইআই নম্বর বক্সে লেখা থাকে। এ ছাড়া *#০৬# ডায়াল করেও আইএমইআই নম্বর জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসার সময় একজন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ৮টি হ্যান্ডসেট আনতে পারেন। এর মধ্যে ২টি ফোন শুল্ক ছাড়া আনার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে দেশে বিপুল পরিমাণ বিদেশি হ্যান্ডসেট নিয়ে আসছে। এসব হ্যান্ডসেট দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বিষয়টি নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। বিদেশ থেকে আসা অনিবন্ধিত এসব ফোন নিবন্ধনে আওতায় আনতে বারবার কার্যক্রম শুরু করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। অবশেষে ঘোষণা দিয়েই অনিবন্ধিত এসব ফোন বন্ধ করে দিতে শুরু করেছে বিটিআরসি।
একই সঙ্গে সংস্থাটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে কেউ অনিবন্ধিত ফোন বিক্রি করলে, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ক্রেতার টাকা ফেরত দিতে হবে।
এবি/এসএন