দশ আইনজীবীর রিট আবেদন হাইকোর্টে খারিজ
আড়িপাতা ও ফোনালাপ ফাঁস সহসা বন্ধ হচ্ছে না
ফাইল ছবি
ফোনে আড়িপাতা বন্ধ ও ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস বন্ধ চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনে ফোনে আড়িপাতা ও ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনাগুলোর তদন্ত চাওয়া হয়। জনগণের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩০ (১) (চ) ধারা এবং সংবিধানের ৩৯ ও ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল চাওয়া হয়। কিন্তু আইনজীবীদের সে আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। কাজেই সহসা বন্ধ হচ্ছে না আড়িপাতা ও ফোনালাপ ফাঁসের মতো ঘটনা।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১০ জন আইনজীবীর পক্ষে আড়িপাতা ও ফোনালাপ ফাঁস বন্ধে রিট আবেদন করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রেজা ই রাকিব।
এর আগে ১০ আগস্ট মোবাইল ফোনে আড়িপাতা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। আড়িপাতা প্রতিরোধের নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ঘটনাগুলোর তদন্ত চেয়ে ওই রিটে নির্দেশনা চাওয়া হয়।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদন করা অন্যান্য আইনজীবীরা হলেন- অ্যাডভোকেট রেজওয়ানা ফেরদৌস, অ্যাডভোকেট উত্তম কুমার বণিক, অ্যাডভোকেট শাহ নাবিলা কাশফী, অ্যাডভোকেট ফরহাদ আহমেদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নওয়াব আলী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিল, অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট জি এম মুজাহিদুর রহমান (মুন্না), অ্যাডভোকেট ইমরুল কায়েস ও অ্যাডভোকেট একরামুল কবির।
রিট আবেদনে বলা হয়, ২২ জুন এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় রিট করা হয়েছে। রিটে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশে ফোনে আড়িপাতার ১৬টি ঘটনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়, দেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে মোবাইল ফোনে আড়িপাড়া ও ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। তাই এটি বন্ধ হওয়া উচিত।
জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি ফোনে আড়িপাতা বন্ধে ৭ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী। ফোনে আড়িপাতা ঠেকাতে আইন অনুযায়ী বিটিআরসির নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়ে ২২ জুন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসেনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের পর থেকে ফাঁস হওয়া ফোনালাপগুলোর মধ্যে রিটে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনালাপ, প্রয়াত আইনজীবী ও বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার নাজমুল হাসানের ফোনালাপ, ভিকারুননিসা নূন কলেজের অধ্যক্ষের ফোনালাপ, হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ফোনালাপ, যশোর-৬ আসনের এমপি শাহীন চাকলাদারের ফোনালাপ, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের ফোনালাপ, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের ফোনালাপ উল্লেখ করা হয়েছে।
এবি/এসএন