নফল তাওয়াফ: নিয়ম, আমল ও ফজিলত
নিজস্ব প্রতিবেদক
হজ ও ওমরার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তাওয়াফ আদায় করা বাধ্যতামূলক হলেও এর বাইরে নফল তাওয়াফের সুযোগ রয়েছে। এটি একটি ঐচ্ছিক ইবাদত, যা মক্কায় অবস্থানরত মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের উদ্দেশ্যে আদায় করে থাকেন।
মসজিদুল হারাম–এ অবস্থানকালে যেকোনো সময় নফল তাওয়াফ করা যায়। এর জন্য ইহরাম বাঁধা বাধ্যতামূলক নয় এবং ওমরার মতো সাঈ করাও প্রয়োজন হয় না।
নফল তাওয়াফ বলতে ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং স্বেচ্ছায় আদায় করা তাওয়াফকে বোঝায়। শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দিনে একাধিকবারও এ ইবাদত করতে পারেন।
নফল তাওয়াফের শুরুতে মনে মনে নিয়ত করতে হয়। এরপর অজু অবস্থায় পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরে হাজরে আসওয়াদকে সামনে রেখে “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে তাওয়াফ শুরু করতে হয়। কাবাঘরকে কেন্দ্র করে সাতবার প্রদক্ষিণের মাধ্যমে একটি তাওয়াফ সম্পন্ন হয়।
তাওয়াফ চলাকালে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও জিকির করা যায়। নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাও বৈধ। সাত চক্কর শেষে মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। পরে জমজমের পানি পান করে দোয়া করা উত্তম।
ইসলামে নফল তাওয়াফের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। আলেমদের মতে, এই ইবাদতের প্রতিটি পদক্ষেপে সওয়াব রয়েছে এবং এটি বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।