• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

পুষ্টিগুণে মসলার চেয়েও বেশি কিছু ‘দারুচিনি’

পুষ্টিগুণে মসলার চেয়েও বেশি কিছু ‘দারুচিনি’

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

দারুচিনি। ঔষধি ও ভেষজগুণে ভরপুর এক মসলা। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে দারুচিনি খাওয়ার প্রচলন নেই। সুপ্রাচীন কাল থেকে রান্নার পাশাপাশি ভেষজ চিকিৎসায় দারুচিনি ব্যবহার হয়ে আসছে। বাংলাদেশে এটি খুব বেশি উৎপাদন হয় না। প্রতিবছর বাইরের দেশ থেকে এই মসলাটি আমদানী করতে হয়। তবে দেশের কোথাও কোথাও এটির পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও প্রয়োজনীয় উপাদান দারুচিনি আমাদের এই পর্বের বিষয়বস্তু। প্রিয় পাঠক তাই আর দেরি না করে চলুন দেখে নিই কি আছে দারুচিনিতে-

পরিচয়

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দারুচিনি একটি মসলা জাতীয় বৃক্ষের বাকল। দারুচিনি গাছ দেখতে অনেকটা তেজপাতা গাছের মতো। এর আদি নিবাস শ্রীলঙ্কায়। তবে ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন দারুচিনি উৎপাদিত হচ্ছে। দারুচিনি থেকে সুগন্ধি তেলও উৎপন্ন করা যায়। এর ইংরেজি নাম Cinnamon। দারুচিনির বৈজ্ঞানিক নাম Cinnamomus Zeylanicum।

দারুচিনির পুষ্টি উপাদান

মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, দারুচিনিতে রয়েছে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট, আঁশ, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা উপকারী ভিটামিন ও খনিজ উপাদান।

প্রতি ১০০ গ্রাম দারুচিনিতে রয়েছে-

ক্যালরি- ৬ গ্রাম,
কার্বোহাইড্রেট- ২ গ্রাম,
খাদ্যআঁশ- ১ গ্রাম,
ক্যালসিয়াম- ২৬ মিলিগ্রাম,
পটাসিয়াম- ১১ মিলিগ্রাম,
ম্যাগনেসিয়াম- ২ মিলিগ্রাম,
ফসফরাস- ২ মিলিগ্রাম,
ভিটামিন কে- ১ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন এ- ৮ আইইউ।

উপকারিতা

বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক অনলাইন মাধ্যম এভরিডে হেলথ তাদের এক নিবন্ধে জানিয়েছে, দারুচিনি মানবদেহের-

হাড় ও জয়েন্টের ব্যথা নিরাময় করে: অনেকেই হাড় ও জয়েন্টের ব্যথা নিরাময়ে দারুচিনি খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। হালকা গরম পানির মধ্যে এক চামচ মধু আর দারুচিনিগুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে ব্যথার স্থানে লাগালে দ্রæত ব্যথা উপশম হয়।

গ্যাস্ট্রিক ও পেটের ব্যথা দূর করে: দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটি ও পেটের ব্যথা দূর করতে দারুচিনি খান। রাতে শোবার আগে দারুচিনির সঙ্গে হরিতকির গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন। এতে অ্যাসিডিটির পুরনো সমস্যা দূর হবে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে: রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দারুচিনি। আপনি নিয়মিত কয়েক টুকরা দারুচিনি দুই কাপ পানিতে মিশিয়ে সেই পানি ফুটিয়ে এক কাপ করে নিন। নিয়মিত এই পানি চায়ের মতো পান করুন। এতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে: যারা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাদের জন্য দারুচিনি হতে পারে আশির্বাদ। প্রতিদিন ২ ইঞ্চি পরিমাণ দারুচিনি দুই কাপ পানিতে ফুটিয়ে নিন। ফুটানো পানি এক কাপ পরিমাণ হয়ে গেলে তা চায়ের মতো পান করুন। এটি দেহের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ইনফেকশন দূর করে: ছত্রাকজনিত ইনফেকশন দূর করতে খুবই কার্যকরী দারুচিনি। প্রতিদিন তিনবার দারুচিনির চা পান করুন। এটি সবধরণের ছত্রাকজনিত ইনফেকশন দূর করবে। এছাড়া ত্বকের ওপরের ইনফেকশন হলে, সেখানে দারুচিনি গুঁড়ার পেস্ট লাগান।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: বুকে চিনচিন ব্যথা, হাঁটতে ও সিঁড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট হয়, তারা হৃদরোগে ঝুঁকিতে আছেন। আপনাদের জন্য সুখবর হয়ে এসেছে দারুচিনি। জিরা, ধনিয়া ও দারুচিনি গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে এককাপ গরম পানিতে চায়ের মতো পান করুন। হৃদরোগের ঝুঁকি ও প্রাথমিক উপসর্গ দূর হবে।

রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে: রক্ত জমাট বাঁধাকে বলা হয় লিউকেমিয়া। এটি একটি মারাত্মক রোগ। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত দারুচিনির চা পান করেন, তাহলে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

গলাব্যথা ও কাশি নিরাময়: ঠান্ডাজনিত গলাব্যথা বা খুশখুশে কাশি উপশমে দারুচিনির কার্যকারিতা ব্যাপক। গরম পানিতে দারুচিনি ও মধু মিশিয়ে দিনে ৬ বার চায়ের মতো পান করুন। গলাব্যথা ও কাশি দূর হবে।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে: বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত প্রতিদিন একবার দারুচিনি চা পান করেন, তাহলে আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাবে। তবে এই পদ্ধতি শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

পরামর্শ

দারুচিনি অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু দিনে ২ চা চামচের বেশি দারুচিনি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ডায়রিয়া ও মাথা ব্যথার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়া যারা কিডনী রোগে আক্রান্ত তারা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে উপরে উল্লেখিত পদ্ধতি মেনে দারুচিনি খাবেন না।

তথ্যসূত্র: এভরিডে হেলথ ডট কম, বিবিসি গুড ফুড ডট কম ও উইকিপিডিয়া

 

এবি/এসএন

০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩২পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।