• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

নানা রোগের নিরাময়ে কার্যকরী ‘শুলফা’

নানা রোগের নিরাময়ে কার্যকরী ‘শুলফা’

ফিচার ডেস্ক

পৃথিবীর প্রাণীকূলের প্রয়োজন ও সুরক্ষার জন্য মহান স্রষ্ঠা কত কিছুই না সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীকে মানুষের জন্য উপযোগী করেছেন। মানুষের জন্য উপযোগী প্রকৃতি তৈরি করেছেন মহান সৃষ্টিকর্তা। এই প্রকৃতিতেই রয়েছে মানুষ ও পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীকূলের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সব উপাদান। তেমনই এক অনন্য প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদানের নাম ‘শুলফা’। এটি প্রাচীনকাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও এটি বেশ পরিচিত একটি ভেষজ উপাদান। ভেষজ গুণাগুণ ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানে ভরপুর শুলফা নিয়ে আমাদের এবারের পর্ব।

চলুন দেখে নেয়া যাক কি আছে শুলফায়-

পরিচয়

শুলফার বৈজ্ঞানিক নাম Anethum sowa। এটি মূলত Umbelliferae পরিবারভুক্ত উদ্ভিদ। খাবারের সুগন্ধি বাড়ানোর জন্য শুলফা ব্যবহার করা হয়। এই উদ্ভিদের পাতা এবং বীজ চাটনি, আচার, সুপ ও সালাদ তৈরির কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া সাবানের সুগন্ধি বাড়ানোর জন্য শুলফার ব্যবহার বহু পুরোনো। প্রাকৃতিক ভাবে খাদ্য সংরক্ষণের কাজেও শুলফার ব্যবহার প্রাচীন।

ইতিহাস বলছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ রাশিয়া, স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে শুলফার উৎপত্তি। ধারণা করা হয়, ৩০০০ বছর আগে থেকে ভেষজ হিসেবে মিশরে শুলফা ব্যবহার করা হতো। এ ছাড়া প্রাচীন গ্রীস ও রোমেও ভেষজ ওষুধ হিসেবে শুফলার ব্যবহার ছিল।

উপাদান

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক ওয়েব জার্নাল ইন্ডিয়া মেডস ও হেলথ সাইটে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, শুফলায় রয়েছে ক্যালরি, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন সি, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা ধরনের খনিজ উপাদান।

প্রতি ১০০ গ্রাম শুফলা দানায় রয়েছে-

ক্যালরি- ৪৩ কিলোক্যালরি,
ফ্যাট- ০.১ গ্রাম,
সোডিয়াম- ৬১ মিলিগ্রাম,
পটাসিয়াম- ৭৩৮ মিলিগ্রাম,
কার্বোহাইড্রেট- ৭ গ্রাম,
ফাইবার- ২.১ গ্রাম,
ভিটামিন সি- ১৪১ শতাংশ,
ক্যালসিয়াম- ২০ শতাংশ,
আয়রন- ৩৬ শতাংশ,
ভিটামিন বি৬- ১০ শতাংশ এবং
ম্যাগনেসিয়াম- ১৩ শতাংশ।

ওষুধি গুণাগুণ

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বলছে, শুলফার পাতা উত্তেজক হিসেবে কাজ করে। বাচ্চা হওয়ার পর প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বাড়াতেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

♦পেট ঠান্ডা রাখে এবং হজমশুক্তি বাড়ায়।

♦প্রস্রাবের মাত্রা বাড়ায়।

♦ফোঁঢ়া পাকাতে শুলফার পাতার প্রলেপ অত্যন্ত কার্যকরী।

♦শাহী জিরার সাথে শুলফা পাউডার করে খাওয়ালে বাচ্চাদের পেট ফাঁপা উপশম হয়।

♦অনিদ্রা, ঢেঁকুর উঠা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের ব্যথা, ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের গ্যাস, ব্রংকাইটিস, হজমশক্তি, ভাইরাস জনিত ঠান্ডাকাশি রোগ নিরাময়েও এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

অন্যান্য উপকারিতা

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক ওয়েব জার্নাল ইন্ডিয়া মেডস, উইকিপিডিয়া ও হেলথ সাইটে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, শুলফা-

সর্দি দূর করে: শুলফা পিষে সেই রস খেলে সর্দি ভালো হয়। এটি শরীর ও মন প্রফুল্ল করে। শুলফা পিষে পুটলি তৈরি করে নাকে শুকলেও সর্দি কমে যায়।

শ্বাসকষ্ট দূর করে: গরম পানিতে শুলফা মিশিয়ে খাওয়ালে শ্বাসকষ্ট দূর হয়।

পেটের অসুখ নিরাময় করে: শুলফা খেয়ে গরম পানি খান, এতে পেটের শূল ব্যথা কমে যাবে। এ ছাড়া এটি মুখে থুতুর আধিক্য, অজীর্ণ এবং বদ্ধ বায়ুর প্রকোপ উপশম হয়।

কাশি নিরাময় হয়: যারা কাশিজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত অল্প পরিমাণে শুলফা খেতে পারেন। এটি সর্দি কাশি নিরাময়ে কার্যকরী। বিশেষ করে বাচ্চাদের সর্দি-কাশি নিরাময়ে এটি খুবই কার্যকরী।

ডায়াবেটিস কমায়: যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা শুলফা পিষে সেই রস খেতে পারেন। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী।

হাড় ও দাঁত মজবুত করে: শুলফায় রয়েছে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। এসব উপাদান হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুবই প্রয়োজনীয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ভেষজ এই উপাদানটিতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ ও আয়রন। এসব উপাদান মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

জ্বর সারায়: গবেষকরা বলছেন, শুলফা খেলে জ্বর কমে যায়। এটি জ্বরের প্রকোপ কমিয়ে দেয়।

গ্যাস্ট্রিক দূর করে: গরম পানিতে শুলফা চুর্ণ মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি পানা করুন। এতে পেটের গ্যাস্ট্রিক দূর হবে।

বাত সারায়: গুড়ের সঙ্গে শুলফা মিশিয়ে খেলে বাত ব্যথায় উপশম পাওয়া যায়।

প্রসূতির জন্য উপকার: আধুনিক ইউনানী শাস্ত্র বলছে, শুলফা খাওয়ালে প্রসূতির খিদে বেড়ে যায়। এ ছাড়া এই উপাদানটি প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বাড়াতে সহায়তা করে। কাজেই প্রসূতি মায়েরা নিশ্চিন্তে এই উপাদানটি খেতে পারেন।

তথ্যসূত্র: হেলথ সাইট, ইন্ডিয়া মেডস ও উইকিপিডিয়া।

০৯ এপ্রিল ২০২২, ০৬:১৫পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।