খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একসময় নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন নদীগুলো সচল থাকায় নদীপথে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিকাজে নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, জমির উর্বরতা বজায় রাখা এবং বর্ষা মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থাকার কারণে বন্যা ও দুর্ভোগ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন কারণে দেশের নদ-নদী, খাল ও বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রভাব এবং বিভিন্ন নদী ও জলাশয় ভরাট হওয়ার কারণে অনেক নদী বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে কখনও অকালবন্যা দেখা দেয়, আবার শুকনো মৌসুমে অনেক নদী প্রায় মরুভূমির মতো হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক সময় বড় শহরগুলোও জলাবদ্ধতার শিকার হয়। অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে নৌ-চলাচল ও কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব দেখা দেয়।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিং করে নাব্য ফিরিয়ে আনা জরুরি। নদ-নদীর জীবন ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে ড্রেজিং, নদীশাসন ও নদী সংস্কারের নামে বাজেট বরাদ্দ হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রমের সফলতা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খাল খননের প্রকৃত সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন দেশের নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে এবং নাব্য ফিরে আসবে। অন্যথায় শুধু খাল খনন করে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবে না।