• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

চাঁদাবাজ–অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা করে বিশেষ অভিযান

চাঁদাবাজ–অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা করে বিশেষ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

সালাহউদ্দিন আহমদ চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

দুটি অগ্রাধিকার

মন্ত্রী জানান,
১. চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২. অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশকে ‘নির্মোহ’ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় জোর

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতের একটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো বাহিনী নয়, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিনির্ভর নয়, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ আইনানুগভাবে চলবে এবং কোনো ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারী নির্দেশ পালন করবে না।

‘চেইন অব কমান্ড’ প্রতিষ্ঠা

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রণালয়ে ‘চেইন অব কমান্ড’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা যেন ঊর্ধ্বতনকে ডিঙিয়ে সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না করেন, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে মন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার বা আইজিপি যেকোনো স্তরে যোগাযোগ করতে পারবেন।

যানজট নিয়ে বিশেষ সেল

ঢাকার যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি বড় সমস্যা। এ বিষয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারকে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এক সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যেখানে নন-মোটরচালিত যান নিষিদ্ধ, সেসব ভিআইপি ও প্রধান সড়কে এসব যান চলাচল সীমিত করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা–এয়ারপোর্ট সড়ক–সচিবালয়মুখী ভিআইপি সড়কে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের অসচেতন আচরণও যানজটের একটি বড় কারণ। ট্রাফিক আইন মেনে চলা ও জনসচেতনতা বাড়ালে সমস্যার বড় অংশের সমাধান সম্ভব।

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৬পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।