শহীদ মিনারে জামায়াত আমির বললেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এসেছি’
ভাষাশহীদ দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রীয় আচার–অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই তিনি এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার–এ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে… এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমাকে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে। তাই আমি এসেছি।’
শফিকুর রহমানের এ কর্মসূচির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়, কারণ অতীতে দলটি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার কর্মসূচি পালন করেনি। তবে এবার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি আগে থেকেই দলীয়ভাবে জানানো হয়েছিল।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে জামায়াত সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের মোট আসন ৭৭টি। এরই মধ্যে শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুল দেওয়ার পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান শফিকুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ কয়েকজন নেতা।
ফুল দেওয়ার পর ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন তাঁরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ভাষাশহীদদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও তাঁরা শ্রদ্ধা জানান।
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া ‘নাজায়েজ’ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে আর কোনো মন্তব্য না করেই স্থান ত্যাগ করেন।