হাম মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনার প্রস্তাব দিলেন তাসনিম জারা
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি জানান, একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন। ভাইরাসটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করার দুই ঘণ্টা পরও সেই পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। জাতীয়ভাবে টিকার হার বেশি হলেও দেশের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চল, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা বা বস্তিতে টিকাদানের হার কম থাকায় সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি আক্রান্ত এলাকা দ্রুত শনাক্ত করতে জাতীয় হাম হটলাইন বা কল সেন্টার চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসাদের খোঁজ, তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ এবং চিকিৎসা সমন্বয় সহজ হবে।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, প্রতিটি আক্রান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে “রিং টিকাদান” কৌশল চালু করা প্রয়োজন। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও আশপাশের মানুষকে দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে, যাতে সংক্রমণ আর বিস্তার লাভ করতে না পারে।
হাসপাতালে রোগীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরতে হওয়াকে তিনি বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন। এজন্য প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট হাম চিকিৎসাকেন্দ্র, পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা এবং আক্রান্তদের জন্য আলাদা চিকিৎসা প্রটোকল চালুর আহ্বান জানান।
তিনি জাতীয় পর্যায়ে শয্যা খালি থাকার তথ্যসংবলিত একটি সরাসরি হালনাগাদ ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দেন, যাতে রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন।
ডা. তাসনিম জারা আরও বলেন, হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যয় সরকারিভাবে বহনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। কারণ অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ সামলাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছে।
সবশেষে তিনি বলেন, হাম মোকাবিলার কার্যকর কৌশল বিশ্বে আগে থেকেই প্রমাণিত। এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং দ্রুত বাস্তবায়ন।