• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

এশিয়া কাপ শ্রীলঙ্কার

এশিয়া কাপ শ্রীলঙ্কার

স্পোর্টস প্রতিবেদক

অর্থনৈতিক টানাপোড়নে টালমাটাল শ্রীলংকা এশিয়া কাপ আয়োজন থেকে অনেকটা সরে দাঁড়িয়েছিল। এমন সিদ্ধান্ত জানানোর পর আরব আমিরাতে খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। অবশ্য, আয়োজক থেকে যায় লংকানরা।

উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানদের কাছে শোচনীয় পরাজয়, পরের ম্যাচ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো হাসারাঙ্গারা সুপার ফোর থেকে ফাইনাল পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ট্রফি নিজেদের ঘরে রেখে দিল।

দুবাইতে এশিয়া কাপের ফাইনালে ২৩ রানে পাকিস্তানে হারানোর মধ্য দিয়ে ষষ্টবার শিরোপার মালিক হল শ্রীলংকা। আর পাকিস্তানের এশিয়া কাপের শিরোপার আক্ষেপটা আরও বাড়ল।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারানো শ্রীলংকানদের স্কোর কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে তা শুরুর দিকে বলা কঠিন ছিল। মেন্ডিস, নিসাকা, গুনাথিলাকাদের মতো টপ অর্ডারদের হারিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়ে লংকানরা। তবে, হাসারাঙ্গা-রাজাপাকসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট দিয়েছে এবারের এশিয়া কাপের স্বাগতিকরা।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামা পাকিস্তান লংকান ইনিংসে আঘাত হানে প্রথম ওভারেই। পাকিস্তানের তারকা নাসিম শাহ প্রথম ওভারে কুশল মেন্ডিসের স্টাম্প উড়িয়ে দারুন শুরু এনে দেন দলকে। চতুর্থ ওভারে হারিস রউফ তুলে নিলেন পাথুম নিশাঙ্কাকে। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে সেই তার শিকার হয়ে ফিরলেন দানুশকা গুনাথিলাকাও। পাওয়ারপ্লে শেষে আরও দুই উইকেট খুইয়ে শ্রীলঙ্কা প্রায় খাদের কিনারেই চলে গিয়েছিল। ৯ ওভার শেষে দলের রান ছিল ৫৮।

ভানুকা রাজাপাকসে আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। এই জুটিই দলকে গড়ে দিয়েছে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের ভিত। হাসারাঙ্গা ৩৬ করে ফিরলেও রাজাপাকসে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। দুই জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত খেলে গেছেন তিনি। রাজাপাকসের ৪৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসে ভর করেই ৬ উইকেটে ১৭০ রানের পুঁজি পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ১৭১।

পাকিস্তানি বোলারদের তোপে বেশ বিপদেই পড়ে গিয়েছিল লঙ্কানরা। সেখান থেকে ভানুকা রাজাপাকসে আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।

অবশেষে তাদের ৩৬ বলে ৫৮ রানের ঝোড়ো জুটিটি ভাঙেন হারিস রউফ। ইনিংসের ১৫তম ওভারে হারিসকে টানা দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন হাসারাঙ্গা। সেই ঝাল মেটাতেই যেন পরের বলেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান পাকিস্তানি পেসার।

স্কয়ার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে হারিসের গতিময় ডেলিভারিতে হালকা করে ব্যাট লাগে হাসারাঙ্গার, বল চলে যায় সরাসরি উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে। ২১ বলে ৫ চার আর ১ ছক্কায় হাসারাঙ্গার ইনিংসটি ছিল ৩৬ রানের।

সেখান থেকে চামিকা করুনারত্নেকে নিয়ে আরেকটি ঝোড়ো জুটি গড়েন রাজাপাকসে। বাঁহাতি এই ব্যাটার ফিরতে পারতেন ১৮তম ওভারে। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে হারিস রউফের স্লোয়ারে বড় শট খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিয়েছিলেন রাজাপাকসে। কিন্তু লংঅফে সহজ সেই ক্যাচ ফেলে দেন শাদাব।

জীবন পেয়ে ৩৫ বলে ফিফটি তুলে নেন রাজাপাকসে। এরপর আরেকটি ক্যাচ তু্লে দিয়েছিলেন লঙ্কান ব্যাটার। এবারও শাদাব খানের ভুলে ছক্কা হয়ে যায়। দুই ফিল্ডার একসঙ্গে দৌড়ে গিয়েছিলেন। ক্যাচটা তালুতেই পড়েছিল আসিফ আলির, একই সময়ে শাদাব সেখানে গিয়ে ধাক্কা খান। বল পড়ে হয়ে যায় ছক্কা।

পাকিস্তানিদের সেই ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেই রাজাপাকসেই শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন দলকে, ৬ চার আর ৩ ছক্কায় ৪৫ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শ্রীলঙ্কাও পেয়েছে ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি।

পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল হারিস রউফ। ৪ ওভারে ২৯ রানে নিয়েছেন ৩টি উইকেট।

১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় পাকিস্তান। টানা দুই বলে হারিয়ে বসে অধিনায়ক বাবর আজম (৫) আর ফাখর জামানকে (০)।

২২ রানে নেই ২ উইকেট। এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে উদ্ধার করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর ইফতিখার আহমেদ। তৃতীয় উইকেটে ৫৮ বলে ৭১ রানের জুটি গড়েন তারা।

রানের চাপ বাড়ছিল। তাই ইফতিখার শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নেন। টানা দুই বলে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ছক্কা আর বাউন্ডারিও হাঁকান। তবে এক ওভার পরই আরেকটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন ইফতিখার। ৩১ বলে ৩২ করে ফেরেন মধুশানের শিকার হয়ে। ওই ওভারে আসে মোট ৬ রান।

পরের ওভারে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা দেন মাত্র ৪। ফলে শেষ ৫ ওভারে পাকিস্তানের দরকার পড়ে ৭০ রান। সেই চাপে ছক্কা হাঁকাতে যান মোহাম্মদ নওয়াজ (৬)। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে হন ক্যাচ।

ছক্কা মেরে ফিফটি পূরণ করেন রিজওয়ান। কিন্তু এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আরেকটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে হাসারাঙ্গার বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন গুনাথিলাকাকে। ৪৯ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় রিজওয়ানের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ রান।

২২ বলে তখন পাকিস্তানের দরকার ৬০ রান। ছক্কা-চার ছাড়া ম্যাচ জেতার উপায় নেই। যে আসিফ আলির ছক্কায় ভরসা করে ছিলেন পাকিস্তানি সমর্থকরা, সেই আসিফ গোল্ডেন ডাকে ফেরেন হাসারাঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে। পাকিস্তানেরও সব শেষ হয়ে যায় ওই আউটের পরই।

রান তাড়ায় বেশ দেখেশুনে শুরু করেছিল পাকিস্তান। প্রথম ৩ ওভারে তোলে ২০ রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারে এসেই বড় বিপদে পড়ে বাবর আজমের দল।

প্রমথ মধুশান নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে তুলে নেন বাবরকে। ফাইন লেগ বাউন্ডারি দিয়ে বল পাঠাতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মধুশঙ্কার দুর্দান্ত ক্যাচ হন পাকিস্তান অধিনায়ক।

পরের বলটি উইকেটে টেনে বোল্ড হন ফাখর জামান। ২২ রানেই ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। শুরুর সেই ধাক্কায় পাওয়ার প্লেতে বড় সংগ্রহ পায়নি বাবরের দল। ২ উইকেটে তোলে ৩৭ রান।

তবে এরপর দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে অনেকটা পথ এগিয়ে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান আর ইফতিখার আহমেদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হাসতে পারেননি তারা। ইনিংসের শেষ বলে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল প্রমথ মধুশান, ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। লেগস্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৪ ওভারে ২৭ রানে নেন ৩টি উইকেট।

১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১৪পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।