“স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক থাকা জরুরী”
নির্বাচনই শেষ কথা নয়, বরং নির্বাচনের পরই দেশের জন্য আসল ও দীর্ঘ ‘পুলসিরাত’ শুরু হবে—এমন মন্তব্য করেছেন সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেছেন, একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক থাকা জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১০টা ৫১ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে ফারুকী এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, নির্বাচন কোনো চূড়ান্ত পরীক্ষার নাম নয়। প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে নির্বাচনের পর, যা হবে দীর্ঘ ও কঠিন। সেই বাস্তবতায় সরকার পরিচালনা সহজ হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ফারুকী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বিএনপি ও জামায়াত—দুটি দল আলাদা হওয়ায় তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কার্যকর কর্মসম্পর্ক না থাকলে নির্বাচনের পর বহুমুখী শত্রুতা ও চাপের মুখে সরকার পরিচালনাই কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে ‘হাউজ ক্লিনিং’, সংস্কার কিংবা নীতিগত বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো আরও দূরের বিষয় হয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ এতটাই কঠিন যে, কোনো কোনো নির্বাচনে জয়লাভও পরাজয়ের মতো হয়ে উঠতে পারে—এমন বাস্তবতার কথাই কবিরা বলে গেছেন।
বেগম খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যে যোগাযোগ দেখা যাচ্ছে, সেটিকে একজন সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন ফারুকী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই যোগাযোগ আরও গভীর ও শ্রদ্ধাপূর্ণ হবে এবং তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই এটিকে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতির বাস্তব চিত্র হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও মূল্যায়ন করছেন।