• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ও মায়ের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ও মায়ের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন

জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ও তাঁর মায়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশের গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের জটিল ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. মোবারক হোসেন (২৯), যিনি কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। পুলিশ জানায়, মোবারক ঝাড়ফুঁক করার সময় শিক্ষার্থীর প্রতি অশ্লীল আচরণ চালাতে চেয়েছিলেন। মা এই ঘটনা দেখে ফেলায় প্রথমে বালিশচাপা দিয়ে মা এবং পরে মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোবারক হোসেনের বাড়ি দেবীদ্বার উপজেলার কাবিলপুর গ্রামে। তিনি কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও কাজীবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। ঢাকায় পালানোর চেষ্টা করার সময় গত সোমবার কুমিল্লা রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোবারক হোসেন হত্যার সময় চারটি মুঠোফোন, একটি ল্যাপটপ এবং ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান। এগুলো পুলিশ উদ্ধার করেছে। ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মোবারক দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ঝাড়ফুঁক করার পরিচয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন রোববার সকালে তিনি বাসায় ঢুকে মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হত্যা করেন, এরপর মেয়েকে হত্যা করেন।

ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা মোবারক হোসেনকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সবকিছু স্বীকার করেছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আবদুর রব (৭৩) নামের আরেকজন কবিরাজের ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পুলিশ জানায়, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না তা ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।