এলজিইডি, সওজ, পিডিবির প্রকৌশলীদের আর্থিক অনিয়মে এনবিআরের অনুসন্ধান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট ৩০০ সরকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বড় আকারের আয়কর ফাঁকির তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে আছেন এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ (সওজ), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, শিক্ষা প্রকৌশল, গণপূর্ত, পিডিবি, ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা।
তাদের মধ্যে এলজিইডির ৩০ জন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১০ জন প্রকৌশলী রয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য সরকারি প্রকৌশল দপ্তরে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, বেশির ভাগ প্রকৌশলী ২ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত কর ফাঁকি দিয়েছেন। আয়কর নথি যাচাই করতে তাদের কাগজপত্র এনবিআরের গোয়েন্দা দপ্তরে নিয়ে আসা হয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচিত কিছু প্রকৌশলী ও তাদের কর ফাঁকির অভিযোগ:
- কে এম ফারুক হোসেন – সিলেট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী। তার স্ত্রী মাহফুজা খাতুন ও মেয়ে তাসমিয়া ফাতেহা ফারুকসহ তিনজনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। তাদের নামে ৮০টিরও বেশি এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশ আয়কর নথিতে দেখানো হয়নি।
তারা ৩ কোটিরও বেশি টাকা ফাঁকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। মেয়ের নামে পোলট্রি খামারের আয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো খামারের অস্তিত্ব মেলেনি। - এস এম কবির – এলজিইডির আরেক প্রকৌশলী। তার এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি টাকার কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- নূর আজিজুর রহমান – সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী। তার স্ত্রীর নামে একটি আটতলা বাড়ি পাওয়া গেছে। তিনি ইতিমধ্যে কর ফাঁকির ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন।
- ফিরোজ আলম তালুকদার ও বাচ্চু মিয়া – এলজিইডির প্রকৌশলী। তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
- মনিরুল ইসলাম – সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
- খালেদ মাহমুদ ও মো. মাহবুবুর রহমান – পিডিবির সাবেক দুই চেয়ারম্যান। দুজনেরই বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ গোপনের অভিযোগ রয়েছে। খালেদ মাহমুদ ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান এবং মাহবুবুর রহমান ২০২৩ সালে পুনরায় নিয়োগ পান।
- মো. ফজলে রব্বে – সওজ সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। বর্তমানে ঢাকায় সিভিল পদে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত।
আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিব জানান, অনেক প্রকৌশলীর সব ব্যাংক হিসাব ইতিমধ্যে ফ্রিজ করা হয়েছে। কয়েকজন কর ফাঁকির টাকা জমাও দিয়েছেন। এখন তাদের আয়কর নথিতে দেখানো না হওয়া সম্পদের তথ্য খোঁজা হচ্ছে। এর জন্য বিভিন্ন ব্যাংক, রিহ্যাব, ভূমি অফিস, বিআরটিএ, সিকিউরিটিজ কমিশনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া বেশ কিছু প্রকৌশলী আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং মাছ ও পোলট্রি খামারে বিনিয়োগের নামে অবৈধ আয় লুকিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।