গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রফেসর ড. খান জহিরুল ইসলামের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। গত ২০ অক্টোবর এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহান দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, ড. খান জহিরুল ইসলাম একজন উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ এবং ক্ষুদ্রঋণ গবেষক। যিনি বর্তমানে কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলম্বিয়াতে অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণ অভ্যুত্থানে ড. খান জহিরুল ইসলাম সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন এবং গত ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে তিনি তৎকালীন সমন্বয়ক এবং বর্তমান উপদেষ্টা জনাব নাহিদ ইসলাম এবং অন্যদের সাথে ছাত্র সমাবেশে বক্তৃতা প্রদান করেন।
এছাড়াও ড. খান জহিরুল ইসলাম শহিদ আবু সাঈদের বাড়িতে তার পরিবারের সাথে দেখা করেছেন এবং শহিদের পরিবারের জন্য তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন। আবু সাঈদকে যেদিন হত্যা করা হয় সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত তার পরিবারের সাথে ড. খান জহিরুল ইসলাম নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, ড. খান জহিরুল ইসলাম একজন কানাডিয়ান প্রবাসী হওয়া সত্ত্বেও জন্মভূমি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য রয়েছে তার অকৃত্রিম ভালবাসা। ড. খান জহিরুল ইসলাম আপনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন শুভাকাঙ্খীও বটে।
দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমের সংবাদ এবং অন্যান্য মাধ্যমে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক গণ অভ্যুত্থানে প্রায় ১৫৮১ জন ছাত্র-জনতা শাহাদাত বরণ করেছেন। আহত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে এখনো হাজার হাজার বিপ্লবী ছাত্র-জনতা হাত-পা, চোখ ইত্যাদি অঙ্গ হারিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন।
৫ আগস্ট ২০২৪ অভ্যুত্থানের পর দুই মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও, এখনো প্রায় প্রতিদিন আন্দোলনে আহতদের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।
গণ অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই শহিদস্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠন করলেও বাস্তবে সকল শহিদ পরিবার কোন আর্থিক সহায়তা পেয়েছে মর্মে কোন সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে না।
নোটিশে বলা হয়েছে, গণ অভ্যুত্থানে আহতদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার কথা বলা হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে আহতরা সঠিক এবং উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছে না। ফলে অভ্যুত্থানের দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হলেও প্রায় প্রতিদিন আন্দোলনে আহতদের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।
যাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে এবং যাদের সাহসী ভূমিকার কারণে আজকের নতুন বাংলাদেশ এসেছে, তাদেরকে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারা আপনার সরকারের জন্য একটি বড় ব্যর্থতা এবং জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জা জনক।
আহতদের সঠিক এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না গেলে এবং যাদের অঙ্গহানি হয়েছে তাদের জন্য স্থায়ী কোন ব্যবস্থা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রহণ না করা হলে তা বাংলাদেশের জন্য একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবে। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে এখনও আহতদের অনেকে মারা যাচ্ছেন, যা কোনো মতেই কাম্য নয়।
এই সকল মৃত্যু সরকারের চরম উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই হচ্ছে। সরকার সময়মতো আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠালে এই সকল মৃত্যু এড়ানো যেত। আহতদের অনেকে এখনও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কেউ কেউ টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না।
সরকার চীন এবং ফ্রান্স থেকে মেডিক্যাল টিম আনার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেই টিম প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য এবং তারা অতি সামান্য কিছু রোগী দেখেছেন বা দেখবেন, যা কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নয়।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, যাদের অসীম সাহসিকতা, ত্যাগ ও বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট রেজিম থেকে মুক্ত হল, তারা উন্নত চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে কিংবা পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন কাটাবে অথচ সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে না এটা মোটেই কাম্য নয়।
দ্রুততর সময়ের মধ্যে জুলাই-আগস্ট’২৪ গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আহতদের স্থায়ী পুনর্বাসনের রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানানো হয়।