ঝিনাইদহে বিএনপির ভার্চুয়াল সমাবেশ
জনগণের আস্থা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ এই সরকারকেই নিতে হবে: তারেক রহমান
ছবি- সমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের আস্থা প্রশ্নহীন ভাবে ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ এই সরকারকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সেদিনও আমাদের সমর্থন ও আস্থা ছিল, আজও আছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, নির্বাচিত সরকারই কেবল দেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে। এই সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে প্রতিপালনের রোডম্যাপ অন্তর্বর্তী সরকারকেই নির্দিষ্ট করতে হবে।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে ঢাকায় ঝিনাইদহের সাব্বির ও প্রকৌশলী রাকিবুল হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত ভার্চুয়াল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ। শহরের পায়রা চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, মীর রবিউল ইসলাম লাভলু, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও মুন্সি কামাল আজাদ পাননু প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক, ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সব পরিবর্তন সাধন যেমন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, তেমনি এমন দায়িত্বও তাদের কাঁধে নেয়া সংগত হবে না যেটা তাঁরা বহন করতে সক্ষম হবেন না। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রতিটি বক্তব্য এমনকি প্রতিটি প্রতিক্রিয়ায় প্রয়োজন সর্বোচ্চ সতর্কতার দৃশ্যমান প্রয়োগ। সরকার পরিচালনা একটি অতি সংবেদনশীল এবং জটিল কাজ, এখানে সামান্য বিচ্যুতি যেমন বিরাট একটা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে, তেমনি সামান্য অসতর্কতাও অতি আবশ্যক বিশ্বাসকে করতে পারে দুর্বল, আর আমাদের শক্তির কেন্দ্রবিন্দু ঐক্যে ধরাতে পারে ফাটল।
তিনি বলেন, মনে রাখা দরকার দেড় যুগ ধরে গড়ে ওঠা স্বৈরাচারের দৃশ্যমান আর অদৃশ্য প্রেতাত্মা এত সহজে তার বিষ-নিশ্বাস থেকে আমাদের পরিত্রাণ দেবে না। স্বৈরাচারের ফেলে যাওয়া দলবাজ উচ্ছিষ্ট প্রশাসনের চলমান ষড়যন্ত্রের কাছে আমরা মাঝে মাঝেই তাদের অসহায় ও বিপর্যস্থ হতে দেখছি। এর অবসান না হলে এদের বেড়াজালে আবদ্ধ সরকার ছোট ছোট বিপর্যয়কে এক সময় মহাবিপদ হিসাবে নিজেদের সামনে দেখতে পাবে। তখন প্রতিকারের পথ হয়ে পড়বে অতি সংকীর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, বৈদেশিক বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বিশ্বের আস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, ব্যবসা বাণিজ্যে স্বস্তি, জনমনে নিরাপত্তা, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের প্রাত্যহিক নাগরিক সুবিধা দিতে একটি নির্বাচিত সরকারের কোন বিকল্প নেই।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই আগস্টের ছাত্র জনতার মহা জাগরণ আমাদের সামনে আরেক স্বাধীনতা আর বিজয়ের বার্তা হয়ে এসেছে। অতি উৎসাহে আমরা যদি এটাকে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর সফলতা বলে চিহ্নিত করে ফেলি তাহলে সম্ভবত আমরা আরেকটি ইতিহাস বিকৃতির ফাঁদে পা দেব। স্বৈরাচার পতনের এই মহা সমরে দেশের সর্বস্তরের মানুষ, রাজনৈতিক দল, ছাত্র জনতা, গৃহিণী, শ্রমিক সবার অবদানকে আমরা যদি মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হই কিংবা গত ১৭ বছর ধরে অবিরাম আন্দোলনে গুম, খুন, মামলা, হামলা আর নির্যাতনে পিষ্ট লক্ষ লক্ষ রাজনৈতিক কর্মীর অবদানকে যথাযথ মূল্যায়নে অসমর্থ হই তাহলে ইতিহাস আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ঝিনাইদহ জেলায় জাতীয়তাবাদী দলের অনেক নেতাকর্মী আছেন যাদেরকে আমরা হারিয়েছি। মিরাজুল, দুলাল ও পলাশসহ বহু মানুষকে হারিয়েছি। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনেও এই জেলার মানুষ সাব্বির ও প্রকৌশলী রাকিবুল বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে। দেশের মানুষ গত ৫ আগস্ট এই স্বৈরাচার সরকারকে হটিয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মুখে যে স্বৈরাচার জনগণের বুকের উপর চেপে বসেছিল, সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই কৃতিত্ব বাংলাদেশের সকল মানুষের কৃতিত্ব।
এসময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আসুন, আমরা আন্দোলন করে, সংগ্রাম করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করি। আসুন আমরা বৈষম্যহীন সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হই। তারেক রহমান বিকাল ৪.৪০টার দিকে ভার্চুয়াল সমাবেশে যুক্ত হয়ে ১১ মিনিট বক্তব্য রাখেন। ১৬ বছর পর আয়োজিত বিএনপির এই সমাবেশটি জনস্রোতে রূপ নেয়।