• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

ছাত্র-জনতার হাতে গড়া অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকারের প্রতি আহ্বান

ছাত্র-জনতার হাতে গড়া অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকারের প্রতি আহ্বান

ব্রিঃ জেনারেল (অব.) মোঃ নাসিমুল গনি

৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিপ্লব বিষয়ক অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লব হিসাবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে পক্ষ-বিপক্ষ। বিপ্লবের প্রত্যাশিত বিষয়গুলো এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সাধারণ জনগণ বিস্তারিতভাবে জানতে পারছেনা। বিষয়টি আমাকে চিন্তিত এবং হতবাক করেছে। বিপ্লব পরবর্তী এই সময়কে মিনিটে মিনিটে মনিটরিং করতে হবে। জনগণকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়মিত অবহিত করা দরকার। কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা এবং বিপ্লবের সফলতা নিশ্চিত করাই এ লেখার উদ্দেশ্য।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন, আহত ও নিহত স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ, বৈদেশিক নীতিমালা সুষ্পষ্টকরণ ইত্যাদি সাধুবাদ পেলেও তাদের কার্যক্রমের গতি এখনও বিপ্লবের গতির সাথে তাল মেলাতে পারছেনা বলে অনুমতি হচ্ছে। ছাত্র-জনতা বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমসমূহ ব্যবহার করে এই ভারসাম্যহীনতা দুর করার সবিশেষ চেষ্টা করছে। গতি জড়তার প্রথম ও প্রধান কারণ সামগ্রিক অবস্থা ও পরিস্থিতি বিষয়ে অস্পষ্টতা এবং বাংলাদেশের ছাত্র জনতার অহিংস বিপ্লবের বিশেষ প্রকৃতি ও স্বেচ্ছাচারী সরকারের পতন বিষয়ক তথ্য বিভ্রান্তি। বর্তমান সময়ে দেশে শান্তিকালীন অবস্থা বিরাজমান নয়।

তাই, বিশেষ পরিস্থিতির আলোকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনাকে জরুরি/যুদ্ধকালীন ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরিত করতে অনেকেই অজ্ঞতা/ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। বিপ্লবপূর্ব পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত ও চিন্তাধারায় পরিপুষ্ট আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অন্যান্য প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন ইত্যাদি বিপ্লব পরবর্তী সময়কে সপ্তাহ/মাসের মত করে সাবেকি ঔপনিবেশিক চালে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ও কার্যকরী করার আদেশ দিচ্ছেন।

বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ে প্রবাসী ড. কর্নেল শহিদ উদ্দিন খান, পিনাকি ভট্টাচার্য, ড. তাজ হাসমী, নাজমুল সাকিব, কনক ছারোয়ার, ইলিয়াছ হোসেনসহ বিভিন্ন অকুতোভয়ী সংগ্রামীরা বিভিন্ন সময় বিপ্লব পরবর্তী কার্যক্রম ও পরিস্থিতিকে যে ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সৎ ও বাস্তবমুখী নির্দেশনা/পরামর্শ দিয়েছেন তা আমলে নেবার কোন প্রকার প্রচেষ্টা ও সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাই, ছাত্র জনতার এই বিপ্লবকে অনেকটা ‘হুজুক’’ ও ‘অপরিপক্ব’ ‘ছাত্রদের আবেগ’ হিসাবে চিহ্নিত করে গণজোয়ারকে বিভিন্ন প্রথাগত আইনের ভিত্তি উল্লেখ দ্বারা নিয়ন্ত্রণে অনেকেই চেষ্টারত। তারা ছাত্র-জনতার বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টা ভিত্তিক আল্টিমেটামকে ‘ছেলে খেলা’ হিসাবে মনে করছেন। এবং সরকার/রাষ্ট্র কীভাবে চলে সে সম্পর্কে অনভিজ্ঞ হিসাবে বিবেচনা করছেন। অথচ দীর্ঘ সময়ের এই লালিত বিপ্লব ছাত্ররা অতি দক্ষতার সাথে সমন্বয় করেছেন। তাই, তাদের গতি ও স্বপ্নকে ঘড়ির কাটার মত দ্রুততম সময়ে এগিয়ে নিতে হবে। নতুবা বিপ্লব চূড়ান্ত সফলতা পাবেনা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার অনেকেই তাই মন ও মস্তিষ্কের গতি জড়তায় আক্রান্ত। আমি নিম্নে তার কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি:

ক. সংবিধানকে বাতিল না করে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অবৈধ রাষ্ট্রপতির নিকট পূর্বের গৎবাঁধা শপথ নেয়া (শপথে বিপ্লব ও গণমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুপস্থিতি), পুরোনো বাতিলকৃত রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, সুশীল সমাজ ইত্যাদিরকে আমন্ত্রণ, গণমানুষের অনুপস্থিতির বিপরীতে বঙ্গভবনের দেয়ালের মধ্যে শপথ পরিচালনা ইত্যাদি। একটি ভিন্ন প্রকৃতির এই বিপ্লবের প্রতি প্রথম ও সবচেয়ে স্পর্শকাতর আঘাত।

খ. আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন আইজিপি কর্তৃক প্রদত্ত সময়সীমার মধ্যে পুলিশের যোগদান নিশ্চিত না করে যোগদানের সময়সীমা বর্ধিত করা আইজিপির নেতৃত্বের প্রতি অসম্মান এবং বিপ্লবের জন্য দ্বিতীয় আঘাত।

গ. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশাসনের পদোন্নতি না পাওয়া কর্মকর্তাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে পদোন্নতি প্রদান। কেননা প্রায় ৪০০ এর অধিক অতিরিক্ত পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। এটি বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষার প্রতি তৃতীয় আঘাত।

ঘ. বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক ৭ দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনার অগ্রগণ্যতা প্রদানের সময় দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, সিনিয়র সচিব, মুখ্য সচিব কর্তৃক মূল্যায়ন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং কার্যপরিকল্পনা করার কথা যা অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ থেকে শপথ গ্রহণের ২/৩ দিনের মধ্যে অনুমোদন করিয়ে নেবার প্রয়োজন ছিল। অথচ এই সব জ্যেষ্ঠ আমলারা কোন প্রকার কর্মপরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিকট যথাযথ ভাবে উপস্থাপন না করে রুটিন ওয়ার্কের মত সময় বৃদ্ধি করিয়ে নিয়েছেন। এই সময়ক্ষেপণ বিপ্লবের প্রতি চতুর্থ আঘাত।

ঙ. বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে, বন্দর, বাজার, বস্তি ও ফুটপাতের পূর্বের দখলদারি ও চাঁদা নিয়ন্ত্রণকারীরা পুনরায় তাদের কার্যক্রম অথবা বিএনপির নব্য নিয়ন্ত্রণকারীরা জায়গা দখল করা শুরু করেছে। এবং সরকারি প্রশাসনের নিম্নস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এতে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটি বিপ্লবের প্রতি পঞ্চম আঘাত।

চ. বিপ্লবের সময় ৪ জন মন্ত্রী, বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তা এবং পূর্বের চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্ত বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব, বিচারক, আইনজীবী, চাঁদাবাজ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের সদস্য, পদলেহনকারী শিক্ষক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান লুন্ঠনকারীদের বিভিন্ন গোয়েন্দা কর্তৃক গ্রেফতার না করা। অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা এদের ব্যাপারে নমনীয়তা প্রকাশ করছে। দেশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে যে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি রয়েছে যার মাধ্যমে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে গ্রেফতার করা সম্ভব। এর অন্যথা বিপ্লবের প্রতি ষষ্ঠ আঘাত হিসাবে বিবেচনা করা যায়।

ছ. বিপ্লব এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকাণ্ডের ফলে সকল নিহত, আহত, এবং নিখোঁজদের তালিকা এখনও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকাশ করতে পারেনি। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক সংকটে ভুগছে। জেলা সিভিল সার্জন বা ডিসি অফিস হতে কোন প্রকার সরকারি নির্দেশনা সরকারি/বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সমাজ কল্যাণ অফিসে পৌঁছায়নি। ফলশ্রুতিতে সবাইকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে। নিহতদের ব্যাপারটি নাইবা বললাম। এ বিষয়টি বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার প্রথম প্রকাশ।

সর্বোপরি, বিপ্লবের গতি প্রকৃতি অনুধাবন, কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন (কর্নেল শহিদ উদ্দিন খাঁন, পিনাকি ভট্রাচার্য, ড. তাজ হাসমী প্রমুখ কর্তৃক প্রদত্ত অনুস্মরণীয় বিষয়াদি) এবং মনিটরিং এর জন্য সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনার নিমিত্তে আগামীতে অতি জরুরিভাবে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ক. সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে জাতীয় সংসদের মধ্যে একটি জরুরি সমন্বিত অপারেশন সেন্টার স্থাপন। এই অপারেশন সেন্টারের নিকট প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মপদ্ধতি নিয়মিত তথ্য প্রদান করতে হবে। এই অপারেশন সেন্টার হতে প্রতিদিন সকাল ১০টায় সকল মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য ও উপাত্ত সাংবাদিকদের নিকট উপস্থাপন করা হবে। প্রতি সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টারা গণমাধ্যমের সাথে আলাপ করবে (মিট দ্যা প্রেস)। ছাত্র জনতার প্রতিনিধি সমন্বয়কেরা এই অপারেশন সেন্টার ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবেন।

খ. প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টারা বিভিন্ন দল ও সংগঠন নেতৃত্বের সাথে মত বিনিময় করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিপ্লবের আদর্শ, উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার জন্য এটি ঠিক আছে। তবে বেশি কালক্ষেপণ করা যাবে না। রাষ্ট্র সংস্কার ও বিনির্মাণের এই বিষয়গুলো সবার জানা। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংস্কার নিয়ে গবেষণা, আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। সুতরাং এই তথ্য ও উপাত্তসমূহ সরকারি মন্ত্রণালয়, সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, মিডিয়া, গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি গবেষকদের নিকট গচ্ছিত রয়েছে। এই সকল অমূল্য রত্ন ভান্ডারকে প্রতিটি মন্ত্রাণালয়/ডিভিশন ৫-৭ দিনের মধ্যে ছোট ছোট দক্ষ ও নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবী দলের মাধ্যমে সংগ্রহ ও পর্যালোচনার পর রাষ্ট্র সংস্কার ও বিনির্মাণের কর্মপরিকল্পনা উপদেষ্টাদের মাধ্যমে জনগণের নিকট উপস্থাপন করা। আগস্ট মাসের ৪র্থ সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য অর্থ ছাড় ও প্রকৃত কার্যক্রম শুরু হবে।

গ. ছাত্র জনতার ঘোষিত ইউনিয়ন/ওয়ার্ড পর্যন্ত সমন্বয় কমিটি সংগঠিত করা এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্ববধানে অপারেশন ও মনিটরিং সেল/সেন্টার স্থাপন ও কার্যপরিচালনা করা। অপারেশন কক্ষ ২৪ ঘণ্টা পরিচালনা করতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় যেসব অতিরিক্ত জনবল রয়েছে সেই সব ব্যক্তিদেরকে এই সব অপারেশন সেল/সেন্টারে নিয়োগ দিতে হবে যেন সরকারি দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোন প্রকার গতিহীনতা না হয়।

ঘ. বিদেশে অবস্থানরত সকল মজলুম ও অকুতোভয়ী সূর্য সন্তানদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে সম্মানের সাথে ফেরত আনা এবং বাংলাদেশের সকল প্রবাসীকে দেশ গড়ার প্রয়োজনে সর্বোচ্চ স্বার্থত্যাগের জন্য আহ্বান জানানো।

ঙ. ছাত্র এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়মিত বুদ্ধিভিত্তিক সহায়তা প্রদান ও মনিটরিং এর জন্য ৩ জন ছাত্র ও ২ জন বয়স্ক দেশ প্রেমিক নাগরিকের সমন্বয়ে একটি কোর টিম গঠন করা।

চ. সরকারের মন্ত্রণালয়ে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে মিটিং সীমিত করে স্বল্প সময়ের জন্য শুধু দুপুরের পর জুম মিটিং করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারি ছুটি শুধু শুক্রবার রাখা বাঞ্ছনীয়। সবাইকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে বিধায় অফিস সময় কমপক্ষে সকাল ৭টা হতে শুরু হওয়া প্রয়োজন। সকল মন্ত্রণালয়/ডিভিশন আগামী ৯০ দিন ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ছ. জুলাই ও আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কারণে বিশেষত শহর এবং মহানগর সমূহে বিভিন্ন গ্রাম হতে আগত কর্মজীবী মানুষ পরিস্থিতির কারণে (ব্যবসা বাণিজ্য, পরিবহণ, শিল্প কারখানা ইত্যাদি) যথা পরিমাণ আয় করতে পারেননি। তাই তারা তাদের পরিবারের কাছে অর্থ জোগান দিতে পারেনি। বিভিন্ন সূত্র হতে দেনা করে সংসার ও শিক্ষা ব্যয় করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে স্বাভাবিক না করতে পারলে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দারিদ্রতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন ও হবেন। দারিদ্রতার এই বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

অনেকেই ছাত্র-জনতার অমিত শক্তির ভারত্ব, কাঠিন্য বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন না। এই বিপ্লবের সফলতার উপরে লক্ষ শহীদ, মা বোনের ইজ্জত, আহত এবং জনগণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার রক্ষা এবং স্বপ্ন নির্ভর করছে। তার সাথে যোগ হয়েছে ২০২৪ এর ৫ আগস্টের বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ, আহত ও অন্যান্য ছাত্র জনতার প্রত্যক্ষ অবদান। এটি বুঝতে পারলে আমরা এই বিপ্লবের সুবাতাস গ্রহণ করতে পারবো। না হলে দেশ হবে পরাধীন। বর্তমান বিপ্লব এখনো অরক্ষিত। আসুন সকল ভেদাভেদ, দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং আদর্শকে পরিহার করে ছাত্র-জনতার নেতৃত্ব ও বিপ্লবী আদর্শকে গ্রহণকরতঃ সফল করার জন্য যে যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি। এক্ষেত্রে মানবিকতা, নৈতিকতা এবং ভালোবাসার আঁচলে সকল বাংলাদেশিকে ঐক্যবদ্ধ করার মানসিকতা ও দর্শন থাকতে হবে। ফলশ্রুতিতে আমরা সবাই মিলে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

 

লেখক:

ড. মোঃ নাসিমুল গনি 

তিনি সামরিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী ও লেখক। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসর প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।

ইমেইল: ghaniboby@yahoo.com

২২ আগস্ট ২০২৪, ০২:৪৫পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।