• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের রোল মডেল

বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সম্মুখে

বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সম্মুখে

প্রতিকী ছবি

সেন্ট্রাল ডেস্ক

উন্নত জীবনধারা, সমুন্নত মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ একসময় মোকাবিলা করেছে, তার সবই আজ অতীত। তলাবিহীন ঝুঁড়ির লজ্জা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ধারাবাহিক পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল সারা দেশে দৃশ্যমান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন বাস্তবতা।

অনেকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ম্যাজিক জানেন। কথাটির যথার্থতা তিনি গত প্রায় ১৫ বছরে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া শেখ হাসিনা দেশে একটি স্থিতিশীল, জঙ্গিবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। যা গত প্রায় ১৫ বছরের এক নীরব যুদ্ধ বটে।

এই পনের বছরে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক সকল খাতে বাংলাদেশ বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। আর্থ-সামাজিক সকল সূচকে এগিয়েছে লাল-সবুজের দেশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এখন প্রভাবশালী দেশের তালিকায়। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। এই দেশ একসময় বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ আর হাড্ডি-কঙ্কালসার মানুষের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কথিত কল্পকাহিনী নির্ভর অভিযোগ ও চতুর্মুখী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই অগ্রযাত্রায় পুরো কৃতিত্ব শেখ হাসিনার।

তার হাত ধরেই উন্নয়নের ‘বিস্ময়’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান-কি মুন বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। এমনকি জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব এন্তনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সম্পর্কে একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আদতে বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, অকৃত্রিম দেশপ্রেম, জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতা আর কঠোর পরিশ্রমের ফলে।

রূপকল্প-২০৪১ এর যে পরিকল্পনা শেখ হাসিনা হাতে নিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ হবে উন্নত এক মডেল রাষ্ট্র। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সরকার দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-৪১) বাস্তবায়ন করছে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, যুগোপযোগী ও জনবান্ধব রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির টালমাটাল প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। করোনা পরবর্তি অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি আবারও চাঙ্গা হয়েছে। মানুষের আয় বেড়েছে, ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা, সরকারি সুবিধা, নাগরিক সুবিধা ও সেবা এখন হাতের নাগালে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে গেছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তিক এলাকার সড়কে এখন পিচ ঢালা কার্পেট। শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল ও উন্নয়নমুখী নীতির কারণেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০০৮-০৯ অথ র্বছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৭০৩ মার্কিন ডলার। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ১৫ বছরে ২০২২-২৩ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার। প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগসহ দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বতর্মান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন; এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, মাতৃত্বকালীন সেবা, শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।

নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মিত হয়েছে। দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর অপেক্ষায়। চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামি বছরের শুরুতেই রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে পারে। এছাড়া ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও চলমান। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসসহ আরও কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।

হাসিনা সরকারের শাসনামলেই কোনো রকম যুদ্ধ-সংঘাত বা বৈরিতা ছাড়াই দুই প্রতিবেশি ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকায় একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পযর্ন্ত মহীসোপান এলাকার প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নারী নেত্রীর একজন মনোনীত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা সব সময় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মধ্য প্রাচ্যের শীষর্স্থানীয় দৈনিক খালিজ টাইমস রোহিঙ্গাদের সংকট মোকাবেলায় শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাকে ‘নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট’ বা ‘পূবের্র নতুন তারকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের সারথি শেখ হাসিনা আপনাকে নিরন্তর শুভেচ্ছা।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:২৯পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।