• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০

বর্ষায় শিশুর যত্ন

বর্ষায় শিশুর যত্ন

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

ঋতু পরিক্রমায় দেশে এখন ভরা বর্ষাকাল। হুটহাট বৃষ্টি শুরু হয় এই সময়ে। বৃষ্টির পানিতে শিশুরা ভিজতে চায়। বর্ষায় শিশুদের ঘরে আটকে রাখাও কঠিন। মনে রাখতে হবে, বৃষ্টির পানি শিশুদের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর-সর্দি, কাশি এমনকি পানিবাহিত রোগের সংক্রমণও হতে পারে।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষায় শিশুর বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। জলাধার ও বৃষ্টির পানি থেকে শিশুকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।

বর্ষায় শিশুর খাবার: পুষ্টিবিদরা বলছেন, বর্ষায় শিশুর খাদ্যতালিকায় হালকা ও পুষ্টিকর খাবার রাখুন। ঘরে তৈরি মুখরোচক খাবার শিশুকে দিন। এতে বাইরের খাবারের প্রতি শিশুর আগ্রহ কমবে। বাদাম, পেয়ারা, লেবু, আমড়া শিশুকে খেতে দিন। প্রতিদিন শিশুকে অন্তত একটি করে ফল খেতে দিন।

পানি পর্যাপ্ত খাওয়ান: শিশুকে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করান। বর্ষাকালে পরিবেশ স্যাঁতস্যেঁতে থাকে। এমন পরিবেশে নানা সংক্রমণ ছড়ায়। শিশুকে নিরাপদ পানি পান করালে সংক্রমণ ঝুঁকি কমে যাবে।

শিশুর পোশাক: বর্ষায় শিশুকে ঝরঝরে শুকনো পোশাক পরান। ভেজা বা নরম কাপড় শিশুকে পরাবেন না। নরম স্যাঁতস্যেঁতে কাপড় পরালে শিশুর দেহে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। ফলে খোশপাচড়া, চর্মরোগ ও চুলকানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বর্ষা চলাকালে শিশুকে ডায়পার পরিয়ে রাখতে পারেন। কেননা, এই সময়ে শিশুর প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে যায়।

শিশুর চুল মুছে দিন: বর্ষাকালে শিশু বৃষ্টির পানিতে ভিজে ঘরে ফিরলে দ্রুত চুল ও মাথা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিন। শিশুর মাথা ও চুল ভেজা রাখবেন না। শিশুর চুল ও শরীর শুকনো রাখার ফলে শিশুর দেহ নানা রকম সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকে।

শিশুর বিছানা পরিষ্কার রাখুন: বর্ষাকালে ঘর-বাড়ি ও বিছানা নরম থাকে। ঘরে আলো ও ফ্যান চালিয়ে রাখুন। এতে ঘরের স্যাঁতেস্যেঁতে ভাব দূর হবে। শিশুর বিছানা পরিষ্কার ও ঝরঝরে রাখুন। মশারি ও কাথা-বালিশ নিয়মিত রোদে শুকিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন।

শিশুর দেহে কি লাগাবেন: বর্ষাকালে শিশু ঘরের বাইরে খেলতে চায়। ফলে শিশুর পায়ের আঙুলে ঘা হতে পারে। তাই, শিশুর পায়ের আঙুলের ভাজে ভাজে সরিষার তেল অথবা নারকেল তেল লাগিয়ে দিন। প্রয়োজনে শিশু ঘুমিয়ে গেলে পায়ের তালু ও আঙুলের ভাজে হালকা গরম সরিষার তেল মালিশ করুন।

বিশেষ সতর্কতা:

বর্ষাকালে শিশুর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। দিনের বেলা ঘরের আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করুন। ঘরে পোকামাকড় বিনাসী ওষুধ ছিটিয়ে রাখুন। এতে পোকামাকড় দূর হবে। তবে, খেয়াল রাখুন, কোনো ওষুধ যেন শিশুর নাগালে না থাকে।

 

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

০৬ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৪৫পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।