• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

জীবনধারা: যে অভ্যাস সুস্থ রাখে

জীবনধারা: যে অভ্যাস সুস্থ রাখে

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

সুস্থ্য থাকতে আমরা কত কিছুই না করি। পুষ্টিকর খাবার, শরীরচর্চা, চিকিৎসকের পরামর্শসহ কত কত সচেতনতা। কিন্তু আপনি কি জানেন, সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকা সম্ভব। সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টিকর খাবার, শরীরচর্চা ও অন্যান্য অভ্যাসের সুষ্ঠু মিশ্রণ জরুরি। অপরিকল্পিত জীবনধারা সবচেয়ে ক্ষতিকর। তাই, আজই নিজের লাইফস্টাইল পরিবর্তন করুন। খাবার খাওয়া ও দৈনন্দিন কাজকর্মে নিয়ে আসুন সামান্য কিছু পরিবর্তন। তাহলেই জীবন ও স্বাস্থ্য সুন্দর হবে।

সকালের নাস্তা বাদ দেবেন না

অনেকেই ওজন কমানোর জন্য সকালের খাবার বাদ দেন। কেউ কেউ আবার সকালের নাস্তা কোনো কারণ ছাড়াই পরিহার করেন। এই অভ্যাসটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, দিনের শুরু ভালোভাবে না হলে সারাদিন কাজকর্ম ভালো হয় না। তাই, সকালে হতে হবে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ।

সকালে ভারি খাবার খেতে না চাইলে দই, ফল, পাউরুটি, মাখন, কর্নফ্লেক্স, ওটমিল, ডিম রাখুন। এসব খাবারে খাদ্যশক্তি বেশি কিন্তু পরিমাণে অল্প।

নিয়ম করে দুপুরের খাবার খান

অফিস কিংবা ঘরে কাজের চাপে অনেকই দুপুরের খাবার সময়মতো খান না। এটি মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। যত কাজই থাক, চেষ্টা করবেন প্রতিদিন নির্দ্রিষ্ট সময়ের ভেতরে দুপুরের খাবার খাওয়ার।

দুপুরের খাবারে ভাত, রুটি, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি রাখুন। ভরপেট খাবেন না। বাইরে কাজের সুবাদে অনেকেই দুপুরের খাবার বাইরে থেকে খান, এটি ঝুঁকিপূর্ণ। চেষ্টা করবেন সবসময় বাড়ি থেকে রান্না করা খাওয়ার।

বিকালের হালকা নাস্তা

সারাদিনের কর্মব্যস্ততার কারণে বিকাল হলেই শরীরে অবসাদ ভর করে। তাই, বিকালে হালকা নাস্তা করা স্বাস্থ্যকর। বিকালের নাস্তায় দেশি ফল রাখুন। সঙ্গে চা-কফি কিংবা হালকা বিস্কুট-টোস্ট রাখতে পারেন।

অনেকেই বিকালের নাস্তায় ভাজাপোড়া খাবার খেয়ে থাকেন। বাইরের ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব খাবার পরিহার করুন।

হালকা রাতের খাবার

রাতের খাবার সবসময় হালকা হওয়া উচিত। সবজি-রুটি, খেজুর, ডিম, গরম দুধ অথবা সামান্য ভাত খেতে পারেন। তবে রাতের খাবার অবশ্যই ঘুমাতে যাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে খাওয়া উত্তম। এতে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। রাতে ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

সুস্থ ও সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্য শরীরচর্চার বিকল্প নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। সকালে শরীরচর্চা করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। পেটে মেদ জমে যাওয়া, কোমড়ে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শরীরচর্চা করুন নিয়ম মেনে।

দ্রুত ঘুমান বেশি ঘুমান

রাতের ঘুম প্রশান্তি বয়ে আনে। তাই, সুস্বাস্থ্য পেতে রাতের ঘুমের বিকল্প নেই। রাত ১০টার মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। রাতে বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভ্যাস ছাড়ুন। অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখাও বাদ দিন। রাতের পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

ধুমপান ছাড়ুন

সুস্থতার অন্যতম ও প্রধানতম উপায় হচ্ছে ধুমপান বা মাদকদ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত থাকা। ধুমপান করলে রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এই বদোভ্যাসের কারণে হজমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। শরীরে অবসাদ ও মানসিকভাবে উদ্ভ্রান্ত হয়ে যায় মানুষ। তাই, সব ভালো একসঙ্গে পেতে চাইলে আজই ধুমপান ছাড়ুন। মাদক ছাড়ুন।

 

তথ্যসূত্র: ওয়েব এমডি।

২৮ মে ২০২৩, ১২:০৮পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।