• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চাই: নাহিদ খান সৈকত

মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চাই: নাহিদ খান সৈকত

ফিচার ডেস্ক

নাহিদ খান সৈকত। একাধারে শিক্ষক, লেখক এবং কণ্ঠশিল্পী। শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলা গান নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই গান রপ্তের সেই যাত্রায় সম্প্রতি “আমি তোর প্রেমের মরা” নামে মৌলিক গান মুক্তি পেয়েছে। গুণী এই শিল্পী গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাতকারে কথা বলেছেন জীবনের বাঁকে বাঁকে ঘটে যাওয়া নানা প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা নিয়ে। তার মুখোমুখি হয়েছিলেন আমরাই বাংলাদেশের ডিআইইউ প্রতিনিধি মো. আবুল কালাম। সাক্ষাতকারটি হুবহু তুলে ধরা হল-

আমরাই বাংলাদেশ: কেমন আছেন; কেমন কাটছে সময়?

নাহিদ খান সৈকত: আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভালো আছি। বর্তমান সময় টা একটু চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কারণ একদিকে স্টুডেন্টদের সেমিস্টার ফাইনাল নিকটে। সিলেবাস শেষ করা, রিভিউ, এসাইনমেন্ট চেক করা, প্রেজেন্টেশন সাজেশন, স্টুডেন্টদের ফাইনালের জন্য প্রিপেয়ার করা, সব মিলিয়ে একটু প্রেশার সামলাতে হচ্ছে।

আমরাই বাংলাদেশ: জানার আছে অনেক কিছু, তবে আপনার শৈশবের গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই।

নাহিদ খান সৈকত: ভীষণ বৈচিত্র্যময়। আমার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। একসময় আমাদের এলাকাটা অজপাড়াগাঁ ছিল। বিদ্যুৎ এসেছে অনেক দেরিতে। এখন অবশ্য কেউ দেখলে কল্পনাই করতে পারবে না যে, বর্ষায় এ অঞ্চলের মানুষ রাস্তায় এসে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে থাকতো; কারণ বন্যায় সব ডুবে যেতো। আমি একদম পল্লীগ্রামে প্রকৃতির সাথে বেড়ে উঠেছি। যেমন মাঠেঘাটে প্রান্তরে ছুটে বেড়িয়েছি, তেমনি নৌকা বাওয়া থেকে শুরু করে মাছ ধরা, কিছু বাদ দেই নি। ছোট বেলায় দাদার সাথে নৌকা বেয়ে বিলে যেতাম, শাপলা তুলে আনতাম, খালে মাছ ধরতাম। এলাকার ছেলেদের সাথে দল বেধে বাগানে ঘুরে বেড়াতাম। ব্রীজ থেকে ঝাঁপিয়ে খালের পানিতে পড়তাম, আর অল্পস্বল্প খেলাধুলা করতাম। এই তো! সেসব দিনের কথা মনে পড়লে এখনো খুব ভালো লাগে। নস্টালজিয়া তাড়িয়ে বেড়ায়।

আমরাই বাংলাদেশ: আমরা জানি আপনি ইউনিভার্সিটির শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন কন্ঠশিল্পী। এ বিষয়টি কেমন লাগে?

নাহিদ খান সৈকত: আসলে শিল্পী আমি এখনো হয়ে উঠতে পারিনি, কারণ শিল্পী হওয়া সাধনার বিষয়। গান আমার ছোট বেলার সাথী। আমি নিজের জন্যই গাই। এখন অবশ্য ক্লাসে স্টুডেন্টদের জন্যও গাইতে হচ্ছে মাঝেমধ্যে। (হাঁসি দিয়ে)।

আমরাই বাংলাদেশ: কিভাবে সংগীত জগতে আসলেন?

নাহিদ খান সৈকত: ছোট বেলা থেকেই গান ভালো লাগতো। স্কুলে ক্লাস থ্রিতে আমি প্রথম সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। পুরষ্কার পাই। তারপর থেকে প্রতি বছরই স্কুলের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম। ক্লাস সিক্সে স্কুলে ওঠার পরে মিঠু ভাইয়ের কাছে বেশ অনুপ্রেরণা পাই। স্কুলের প্রোগ্রামের আগে এক মাস রিহার্সাল হতো। সেই দিন গুলো তে মিঠু ভাই বলা যায় একদম হাতে ধরে ধরে শেখাতেন। এবং প্রতিবছর ই আমি ২/৩ টা পুরষ্কার পেয়েই যেতাম। এভাবেই আসলে সঙ্গীত জগতে আসা। সঙ্গীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ধারেকাছেও যেতে পারিনি। পরবর্তীতে অবশ্য ইউনিভার্সিটি তে পড়াশোনা চলাকালীন ছায়ানটে লোকসংগীতের তালিম নিয়েছি।

এরপরের ঘটনা গুলো আমার জীবনের সেরা ঘটনা। ২০২১ সালে আরটিভি আয়োজিত ‘বাংলার গায়েন’ নামে একটা রিয়েলিটি শো তে অংশগ্রহণ করি এবং সম্মানিত বিচারক এবং দর্শকের ভালোবাসায় অনেক প্রতিযোগীর সাথে প্রতিযোগিতা করে সেরা-৩০ এর একজন হওয়ার সৌভাগ্য হয়। এরপর মাছরাঙা টিভি আয়োজিত রাঙা সকাল অনুষ্ঠানে ও সঙ্গীত পরিবেশন করি। এই তো, এভাবেই আমার সঙ্গীত জগতে আসা।

আমরাই বাংলাদেশ: কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন কিনা?

নাহিদ খান সৈকত: প্রতিবন্ধকতা সব কিছুতেই থাকে। আমি বলা যায় দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছি। দাদাদের সাথে যৌথ ফ্যামিলি যখন ছিল, অভাব অনটনের কারণে তিনবেলা পরিপূর্ণ খাওয়াটাই যেখানে কঠিন, সেখানে গান চর্চা বিলাসিতা ছাড়া আর কি বলেন? যেকারণে ছোট বেলা থেকে গান আমার সেভাবে শেখা হয়নি। ওই শুনে শুনেই গাইতাম। হয় তো ততটা ভালো তখন ও করতে পারিনি। কিছু স্বপ্ন থাকে যা কখনো আমরা প্রকাশ করতে পারিনা। হৃদয়ের অন্ধ কুঠরিতে সে স্বপ্নের স্বাদ গুমরে মরে। তবে যদি কেউ আসলেই অন্ধকারের সাথে সক্ষমতার যুদ্ধে আসে তাহলে একদিন বিজয় আসবেই।

আমরাই বাংলাদেশ: গানের প্রতি আপনার ভালোবাসা কীভাবে?

নাহিদ খান সৈকত: আমার মায়ের গলা খুব ভালো। মায়ের কাছে টুকটাক পুরোনো গান শুনতাম। তাছাড়া রেডিও তে গান শুনতাম, ক্যাসেট রেকর্ডারে, এভাবে শুনে শুনেই মূলত ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।

আমরাই বাংলাদেশ: আমরা জানি সম্প্রতি ‘আমি প্রেমের মরা’ শিরোনামে আপনার মৌলিক গান রিলিজ হয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

নাহিদ খান সৈকত: বেশ ভালো। আসলে আমি আরো কয়েকটা গানে কাজ করেছি। সেসব এখনো রিলিজ হয়নি। তবে ফোক ঘরানার এই গান টি খুব দ্রুতই রিলিজ হয়ে গেলো। কারণ এই গানের প্রডিউসার শাফায়েত বাধন ভাই অল্প সময়ের মধ্যেই এই গানের ভয়েস এবং ভিডিওর কাজ শেষ করেছেন এবং রিলিজ ও দিয়েছেন। এজন্য এটিই আমার প্রথম মৌলিক গান। এখনো বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। সবাই বেশ প্রশংসা করছে।

আমরাই বাংলাদেশ: ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতার পাশাপাশি গানের চর্চা আলাদা প্রভাব ফেলে কীনা?

নাহিদ খান সৈকত: হ্যাঁ, কিছুটা প্রভাব অবশ্যই থাকে। কারণ আমি সব সময় চেষ্টা করি যাইই করছি সেটা যেন প্যাশন দিয়ে করতে পারি। এজন্য আমার ইউনিভার্সিটির কাজ গুলো আমি সর্বোচ্চ ইফোর্ট দিয়ে করতে চাই। দিনশেষে গান আর শিক্ষকতা একসাথে ব্যালেন্স করাটা একটু কঠিন।

আমরাই বাংলাদেশ- ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কোন পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? শিক্ষক নাকি শিল্পী?

নাহিদ খান সৈকত- শিক্ষক। আমি আগেও বলেছি আমি শিল্পী না। গান কে ভালোবেসে ধারণ করি। গান নিয়েই বেঁচে থাকার চেষ্টা করি। আর কিছু না থাকলেও আমার পাশে গান সব সময় থাকে। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে আমি শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

আমরাই বাংলাদেশ- গান নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

নাহিদ খান সৈকত: আমার একটা স্বপ্ন আছে। মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়ার তীব্র আকাঙ্খা আমার। খুব করে চাই যে একদিন আমার গান সবার হৃদয়ে স্থান করে নিবে। যতদিন আছি, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাবো।

আমরাই বাংলাদেশ- আমাদের সময় দেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

নাহিদ খান সৈকত: আপনাকেও ধন্যবাদ। আমরাই বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা।

০৬ আগস্ট ২০২২, ০৬:৪৭পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।