• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

‘লাল শাক পাতে তুলে দাও তার আগে’

‘লাল শাক পাতে তুলে দাও তার আগে’

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

‘ভাত আর ডাল খেতে খুব ভালো লাগে, লাল শাক পাতে তুলে দাও তার আগে’। ছোট বেলার ছড়া। এই ছড়াটির সঙ্গে পরিচয় নেই, এমন মানুষ পাওয়া ভার। ছড়াকার দুটি লাইনেই ফুটিয়ে তুলেছেন ভোজনরসিক বাঙালির সঙ্গে লাল শাকের অনবদ্য সম্পর্ক। খাবারে লাল শাক থাকা মানেই যেন অন্য রকম এক অনুভূতি। পাতে লাল শাক দেখলেই অনেকেরই মনে পড়ে যায় ছোট্ট বেলার ছড়াটি।

প্রিয় পাঠক আমাদের ভূমিকা দেখে এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন যে, আমরা এই পর্বে ‘লাল শাক’-এর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার চেষ্টা করেছি। তাই আর দেরি নয়, চলুন দেখে নিই কি আছে লাল শাকে-

পরিচয়

বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, লাল শাক এক প্রকারের শাক বা পাতা জাতীয় সবজি। শীতকালে এটি বেশি পাওয়া যায়। মাস খানিক পরেই শীতের আবহ শুরু হবে। এরই মধ্যে বাজারে লাল শাক আসতে শুরু করেছে। এটি লাল ও খয়েরি রঙের হয়ে থাকে। লাল শাকের গাছ ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।

পুষ্টিগুণ

উইকিপিডিয়া ও কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য বলছে, লাল শাকে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এছাড়া এটি অ্যামাইনো অ্যাসিড, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়ামে ভরপুর একটি উপাদান। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ এবং ক্যালসিয়াম।

উপকারিতা

পুষ্টিবিদদের বরাত দিয়ে কলকাতার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘এই সময়’ লাল শাকের উপকারী নানা দিক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, লাল শাক খেলে-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে: নিয়মিত লাল শাক খেলে শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি এর ঘাটতি দূর হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

সংক্রমণ দূরে রাখে: লাল শাকের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অন্যান্য উপাদান সাধারণ সংক্রমণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।

জ্বর নিরাময় হয়: আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই জ্বর ও হালকা সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হন। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত লাল শাক খাদ্য তালিকায় রাখেন, তাহলে সাধারণ জ্বর, সর্দি ও কাশি থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে: যারা রাতকানাসহ দৃষ্টিশক্তি হ্রাসজনিত নানা রোগে ভুগছেন, তারা নিয়মিত লাল শাক খেতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ। যা রাতকানা রোগ নিরাময়ে খুবই কার্যকরী। এছাড়া এটি দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতেও সহায়তা করে।

হাড় মজবুত করে: এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন কে। এটি হাড় মজবুত করতে খুবই কার্যকরী। অস্টিওপরোসিস রোগের মতো জটিল হাড়ের রোগ নিরাময়েও লাল শাক দারুণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত লাল শাক খেলে হাড়ের রোগ দূরে থাকবে।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে: চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, লাল শাকে রয়েছে ‘ফাইটোস্টেরল’। যা শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। আর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে। কাজেই নিয়মিত লাল শাক খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি আপনার হার্ট সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।

রক্তশূন্যতা দূর করে: যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত লাল শাক খান। এটি শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে রক্তশূন্যতা দূর হয়। লাল শাক পিষে রস বের করে সেই রস ১ চা চামচ লেবুর রস ও ১ চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন। এতে দ্রুত রক্তশূন্যতা দূর হবে।

হজমশক্তি উন্নত করে: লাল শাকের অন্যতম প্রধান গুণ হল- হজমশক্তি উন্নত করা। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ। যা হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। ফলে হজমশক্তি উন্নত হয়। সেই সঙ্গে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দূর হয়।

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস (বিডি), উইকিপিডিয়া ও ম্যাগাজিন এই সময় (কলকাতা)

 

এবি/এসএন

০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৩পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।