• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ঝাঁঝে যেমন গুণেও তেমন ছোট্ট ‘গোল মরিচ’

ঝাঁঝে যেমন গুণেও তেমন ছোট্ট ‘গোল মরিচ’

ফিচার ডেস্ক

রসনা বিলাসী বাঙালির রান্নার অন্যতম উপাদান গোল মরিচ। মাংসের ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য গোল মরিচের জুড়ি মেলা ভার। আকারে ছোট হলেও এই মসলার ক্ষমতা বিশাল। সুপ্রাচীন কাল থেকে বাঙালির রান্নায় গোল মরিচের ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রান্নার অন্যতম অনুসঙ্গ।

যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেল নিউজ টুডে গোলমরিচের নানা পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছে। যা পাঠকদের জন্য আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। চলুন দেখে নিই, কি আছে গোলমরিচে-

পরিচয়

গোল মরিচের বৈজ্ঞানিক নাম Piper nigrum। ইংরেজিতে এটিকে বলা হয় Black pepper। শুকনো গোল মরিচ মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সংস্কৃত ভাষায় এটির নাম ‘পিপালী’।

যা আছে গোল মরিচে

এছাড়া ২০২০-২০২৫ সালের মার্কিন খাদ্যবিষয়ক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গোল মরিচে রয়েছে পিপারিন নামক রাসায়নিক উপাদান। যা এটির স্বাদকে ঝাঁঝালো করেছে। এছাড়া এতে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাংগানিজ, জিংক, ক্রোমিয়াম, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি।

ক্যালরি- ৫.৭৭ কিলোক্যালরি,
প্রোটিন- ০.২৩৯ গ্রাম,
শর্করা- ১.৪৭ গ্রাম,
আঁশ- ০.৫৮২ গ্রাম,
সুগার ০.০১৫ গ্রাম,
ক্যালসিয়াম- ১০.২ মিলিগ্রাম,
আয়রন- ০.২২৩ মিলিগ্রাম,
ম্যাগনেসিয়াম- ৩.৯৩ মিলিগ্রাম,
ফসফরাস- ৩.৬৩ মিলিগ্রাম,
পটাসিয়াম- ৩০.৬ মিলিগ্রাম,
সোডিয়াম- ০.৪৬ মিলিগ্রাম,
জিংক- ০.০২৭ মিলিগ্রাম,
ম্যাঙ্গানিজ- ০.২৯৪ মিলিগ্রাম,
সেলেনিয়াম- ০.১১৩ মাইক্রোগ্রাম,
ফ্লুরাইড- ০.৭৮৭ মাইক্রোগ্রাম,
নিয়াসিন- ০.০২৬ মিলিগ্রাম,
ফলেট- ০.৩৯১ মাইক্রোগ্রাম,
বেটাইন- ০.২০৫ মিলিগ্রাম,
বেটা ক্যারোটিন- ৭.১৩ মাইক্রোগ্রাম,
লুটেইন- ১০.৪ মাইক্রোগ্রাম,
ভিটামিন ই- ০,০২৪ মিলিগ্রাম,
ভিটামিন কে- ৩.৭৭ মাইক্রোগ্রাম,
ভিটামিন এ- ১২.৬ মাইক্রোগ্রাম।

উপকারিতা

মেডিকেল নিউজ টুডে (ইউকে) ও টাইমস অব ইন্ডিয়াতে প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রবন্ধে গোল মরিচের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গোল মরিচ -

প্রদাহ বিনাশ করে: গোল মরিচে রয়েছে প্রদাহ বিনাসী উপাদান। যা ঘা ও ক্ষত সারাতে খুবই কার্যকরী।

সংক্রমণ প্রতিরোধ করে: আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে অনেকেই সাধারণ জ¦র, সর্দি ও কাশিতে ভুগে থাকেন। কিন্তু গোল মরিচ খেলে এসব সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।

হজমশক্তি উন্নত হয়: পেটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে হজমশক্তি উন্নত হয়। আর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড বৃদ্ধিতে গোল মরিচ অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়া এটি পেটের গ্যাস দূর করে।

ওজন কমাতে সহায়তা করে: পেটের গ্যাস্ট্রিক দূর হলে ও হজমশক্তি বৃদ্ধি পেলে পরিপাক ভালো হয়। ফলে অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এটি অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরি পুড়িয়ে শরীর ঝরঝরে করে তোলে।

জয়েন্টের ব্যথা নিরাময়: যারা অতিরিক্ত ওজন ও পুরনো আঘাতের কারণে হাঁড়ের জয়েন্টের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, তাদের জন্য গোল মরিচ হতে পারে আশির্বাদ। এটি গেটে বাত ও বাত ব্যথা দূর করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: গোল মরিচে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে (ইউকে), টাইমস অব ইন্ডিয়া ও উইকিপিডিয়া

 

এবি/এসএন

৩০ আগস্ট ২০২১, ০৭:৫৪পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।