• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

বন্যার সময় ও বন্যা পরবর্তি করণীয়

বন্যার সময় ও বন্যা পরবর্তি করণীয়

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

দেশের সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তর-উত্তরপুর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে টিউবওয়েল, ভেসে গেছে মিঠাপানির পুকুর। বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়। খাদ্যসংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যা পরবর্তি স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বন্যাদুর্গত এলাকায় কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে আশঙ্কাজনক হারে।

বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাধিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য গবেষকরা বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

নিরাপদ পানি পান করুন

বন্যাদুর্গত এলাকায় সবচেয়ে নিরাপদ টিউবওয়েল সংকট দেখা দেয় বেশি। নিরাপদ টিউবওয়েল না থাকায় মানুষের নিরাপদ খাবার পানির সংকট দেখা দেয়। ফলে বন্যাপীড়িত মানুষ বাধ্য হয়ে বানের পানি পান করেন। এতে করে তারা নানা রকম রোগে আক্রান্ত হন।

উপায়: পানি ফুঁটিয়ে বা ফিটকিরি দিয়ে শোধন করে পান করুন। এছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে পানি পরিশোধন করে পান করতে পারেন।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

বন্যার সময় স্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়া বেশ কঠিন। তারপরও সবার উচিত যথাসাধ্য স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা। কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। এ ছাড়া নষ্ট খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

উপায়: পচা-বাসি খাবার পরিত্যাগ করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। নিয়মিত খাওয়ার আগে দুই হাত ও খাওয়ার পাত্র ভালো করে ধুঁয়ে নিন।

রোগে আক্রান্ত হলে যা করবেন

বন্যাচলাকালীন অথবা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সাধারণ জ্বর-কাশির মতো রোগে আক্রান্ত হলে বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিন। তবে জ¦র যদি কয়েকদিন টানা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জ¦র দুর করতে শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে বারবার মুছে নিন এবং প্যারাসিটামল সেবন করুন। এ ছাড়া কাশি কিংবা ঠান্ডাজনিত গলাব্যথা হলে উষ্ণ (চায়ের মত) পানি খান।

শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নিন

বন্যার সময় শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নিন। শিশুরা যেন কোনো ভাবেই বন্যার পানির সংস্পর্শে না যেতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। শিশুদের বন্যার পানিতে গোসল করতে দিবেন না। শিশুরা যেন বন্যার পানি খেলাধুলাও না করে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন।

ঘর সুরক্ষিত রাখুন

বন্যার পানি ঘর থেকে নেমে যাওয়ার পর ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ঘর পরিস্কার করুন। ঘরের মেঝে, দেয়াল, দরজা, জানালা ও অন্যান্য জায়গায় ব্লিচিং পাউডার কিংবা অন্যান্য জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দিন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ঘর শুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। ঘরে যেন প্রচুর আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেদিকে খেয়াল করুন।

বাড়তি সতর্কতা মেনে চলুন

ঘরে থাকা বৈদ্যুতিক লাইন, বৈদ্যুতিক চুলা, গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে সতর্কতার সঙ্গে সবকিছু পরীক্ষা করে নিন। জিনিসপত্র সব জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নেয়া ভালো। জীবাণুনাশক পানির দ্রবণে তোয়ালে, গামছা কিংবা কাপড় ভিজিয়ে সেই কাপড় দিয়ে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র মুছে নিতে পারেন। দিনে কিংবা রাতে, ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।

২৩ জুন ২০২২, ০৩:৫৬পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।