• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

বহুরোগের নিরাময়ে অনন্য ‘গন্ধভাদালি’

বহুরোগের নিরাময়ে অনন্য ‘গন্ধভাদালি’

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

দারুণ এক উদ্ভিদ ‘গন্ধভাদালি’। এটি দেখতে লতার মতো। বিস্তার লাভ করে পান গাছের মতো। বাংলাদেশের বনে-বাদাড়ে এই গাছ প্রায়ই দেখা যায়। এটি ভেষজ চিকিৎসায় সুপ্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। গন্ধভাদালি দেশের একেক এলাকায় একেক নামে পরিচিত।

উপকারি এই উদ্ভিদটির ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও এর উপকারিতা বা গুণাগুণ কিন্তু একই। বাংলাদেশ ছাড়াও এটি ভেষজ চিকিৎসায় বিশে^র বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়। এর গুণাগুণ ও উপকারিতা নিয়ে আমাদের এই পর্বে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে।

প্রিয় পাঠক, চলুন দেখে নিই গন্ধভাদালির আদ্যোপান্ত-

পরিচয়

প্রকৃতির এক অপার দান গন্ধভাদালির বৈজ্ঞানিক নাম Paederia foetida। এটি Rubiaceae পরিবারভুক্ত একটি উদ্ভিদ। আমাদের দেশে এই উদ্ভিদটি গন্ধালী, পূতিগন্ধ, প্রসারণী নামেও পরিচিত। এই উদ্ভিদের কচি ডগা শাক ও সবজি হিসেবে খাওয়া যায়।

এ ছাড়া ভেষজ চিকিৎসা ও রূপচর্চায় গন্ধভাদালির ব্যবহার সুপ্রাচীন। এটিকে আলংকারিক উদ্ভিদ হিসেবেও লাগানো হয়। গন্ধভাদালি গাছটি পান গাছের মতো লতা জাতীয়। এটি বিভিন্ন গাছ বেয়ে বেয়ে বিস্তার লাভ করে।

ভেষজ গুণাগুণ

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্বলনাশ, কৃমি ও পিত্তনাশক হিসেবে গন্ধভাদালির জুড়ি মেলা ভার। ভেষজ চিকিৎসায় এই উপাদানটি বহুকাল ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, কম্বোডিয়া, তাইওয়ান, চীন, জাপান ও নেপালে ভেষজ চিকিৎসায় এই উপাদানটি ব্যবহৃত হয়।

উপাদান

হেলথ বেনিফিট টাইমস ও উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে, গন্ধভাদালিতে রয়েছে ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন সি, ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়ামসহ নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান।

প্রতি ১০০ গ্রাম গন্ধভাদালিতে রয়েছে-

ক্যালরি- ৬০ শতাংশ,
কার্বোহাইড্রেট- ১১.৮ গ্রাম,
ফাইবার বা খাদ্যআঁশ- ২২.১ গ্রাম,
সুগার- ১.৬ গ্রাম,
প্রোটিন- ৪.৭ গ্রাম,
ভিটামিন সি- ২৮ শতাংশ,
ক্যালসিয়াম- ১৫ শতাংশ,
ফসফরাস- ১১৯ মিলিগ্রাম,
ম্যাগনেসিয়াম- ২২২ মিলিগ্রাম এবং
আয়রন- ৯৩ শতাংশ।

উপকারিতা

জনপ্রিয় ওয়েব জার্নাল হেলথ বেনিফিট টাইমস, ইজি আর্য়ুবেদ ও উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, গন্ধভাদালি-

আমাশয় দূর করে: এই উপাদানটি প্রধানত আমাশয় বা পেটের অসুখ নিরাময়ে বেশি কার্যকরী। গন্ধভাদালি পাতার রস ৩/৪ চা-চামচ একটু গরম করে ৮/১০ ফোঁটা মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে আমাশয় নিরাময় হয়।

শিরা উন্নত করে: গবেষকরা বলছেন, হাত বা পায়ের শিরা সংকুচিত হলে গন্ধভাদালির পাতা বেটে তিলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গায়ে মাখলে উপকার পাওয়া যায়।

বাতের ব্যথা উপশম করে: ভেষজ চিকিৎসা শাস্ত্র বলছে, গন্ধভাদালি পাতার নির্যাসের সঙ্গে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে খেতে পারেন। নিয়ম করে ২ থেকে ৪ দিন খেলেই বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি মেলে।

সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা বাড়ে: গবেষকরা বলছেন, পুরুষের শুক্রাণু পাতলা হলে সন্তান জন্মদান কঠিন হয়ে যায়। তাই শুক্রাণু ঘন বা গাঢ় হওয়া দরকার। আর এজন্য আপনারা দুই চা-চামচ গন্ধভাদালি পাতার রসের সঙ্গে ঘন গরম দুধ মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে শুক্রাণু ঘন হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো হয়: কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা গন্ধভাদালী পাতার রস সকালে লবনের সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন। উপকার পাবেন।

দাঁতের কালো দাগ দূর করে: দাঁতের পুরনো কালো দাগ দূর করতে গন্ধভাদালির জুড়ি মেলা ভার। গন্ধভাদালির ফল খেলে দাঁত ঝকঝকে হয়।

সংক্রমণ সারায়: সাধারণ সর্দি জ্বর ও শরীর ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে খেতে পারেন গন্ধভাদালি। এটি সাধারণ সর্দি জ¦র ও শরীর ব্যথা নিরাময়ে বেশ কার্যকরী।

পেটের রোগ দূর করে: পেট ফাঁপা, বদহজম ও পেটের ব্যথা উপশমে গন্ধভাদালি পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী। এটি পেটের যাবতীয় সমস্যা দূর করবে।

তথ্যসূত্র- হেলথ বেনিফিট টাইমস, ইজি আয়ুর্বেদ, ন্যাচার আয়ুর্বেদ ও উইকিপিডিয়া।

১৮ এপ্রিল ২০২২, ০৬:২১পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।