• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

হৃদরোগ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ‘গাছ আলু’

হৃদরোগ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ‘গাছ আলু’

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

ভাতের উত্তম বিকল্প ‘আলু’। আমাদের দেশে বেশ কয়েক রকম আলু পাওয়া যায়। গোল আলু, শাক আলু, চীনা আলু, মেটে আলু প্রভৃতি। তবে দেশের বনে-বাদাড়ে অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা একটি আলুর নাম ‘গাছ আলু’। পার্বত্য অঞ্চলে এই আলু বেশি পাওয়া গেলেও দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো গাছ আলু রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে শীতের সকালে গাছ আলু পুড়িয়ে খাওয়ার প্রচলনও বেশ পুরোনো।

পুষ্টিগবেষকরা বলছেন, গাছ আলু অন্যসব আলুর মতোই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এটির ভেষজ কার্যকারিতাও রয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে আমরা আজকের এই পর্বে গাছ আলুর পুষ্টিগুণ ও উপকারি দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

প্রিয় পাঠক, চলুন দেখে নেয়া যাক গাছ আলুর আদ্যোপান্ত-

পরিচয়

আমাদের দেশে গাছ আলু নানা নামে পরিচিত। এটির বৈজ্ঞানিক নাম Disoscorea alata। গাছ আলু মূলত Dioscoreaceae পরিবারভুক্ত প্রজাতির সবজি। এটি খাবার হিসেবেও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। আবার এটি ভেষজ চিকিৎসায়ও কার্যকরী। আগে বসতবাড়ীর পাশে গাছে গাছে এই আলুর ডগা তুলে দেয়া হতো। গাছে গাছেই এই আলু ডগা বিস্তার করত। যে কারণে এর নাম হয়ে যায় ‘গাছ আলু’।

এটি বছরে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আলু দেয়। পরে মারা যায় গাছটি। এটি রান্না করে খাওয়া হয়। তবে গ্রামাঞ্চলে এই আলু পুড়িয়ে ভর্তা বানিয়ে খাওয়ার প্রচলন বেশি।

খাওয়ার পদ্ধতি

পুষ্টিবিদরা বলছেন, এটি ওল, গোল আলু বা সমজাতীয় উদ্ভিদ। এটি অন্যান্য সবজির মতোই ভর্তা, মাছ ও মাংসের সাথে রান্না করে খাওয়া যায়। গ্রামে অনেকেই এই আলু চুলার আগুনে পুড়িয়ে খেতে পছন্দ করেন।

পুষ্টি উপাদান

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবজার্নাল হেলথ লাইন ও হেলথ বেনিফিট টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, গাছ আলুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট। এ ছাড়া এতে রয়েছে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রনসহ নানান খনিজ উপাদান।

প্রতি ১০০ গ্রাম গাছ আলুতে রয়েছে-

ক্যালরি- ১৪০ গ্রাম,
কার্বোহাইড্রেট- ২৭ গ্রাম,
প্রোটিন- ১ গ্রাম,
চর্বি- ০.১ গ্রাম,
ফাইবার- ৪ গ্রাম,
আয়রন- ৪ শতাংশ,
পটাসিয়াম- ১৩.৫ শতাংশ,
ক্যালসিয়াম- ২ শতাংশ,
সোডিয়াম- ০.৮৩ শতাংশ,
ভিটামিন সি- ৪০ শতাংশ এবং
ভিটামিন এ- ৪ শতাংশ।

উপকারিতা

ওয়েবজার্নাল হেলথ লাইন, রিসার্চ গেইট, হেলথ বেনিফিট টাইমস ও উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, গাছ আলু-

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: গাছ আলুতে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার বা খাদ্যআঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ। এসব উপাদান হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এই আলু হার্টের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: গাছ আলুতে রয়েছে ফোলেট, যা ডিএনএ তৈরি ও ডিএনএ ফাংশনে সহায়তা করে। ফলে শরীরে থাকা ক্যান্সারের কোষগুলো ধ্বংস হয়। এটি নিয়মিত খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: গাছ আলুতে রয়েছে ভিটামিন এ এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

কোলেস্টেরল কমায়: এই আলুতে থাকা ভিটামিন সি, মিনারেল ও পটাসিয়াম শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি ওজন কমাতেও কার্যকরী।

শক্তি বৃদ্ধি করে: গাছ আলুতে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

হজমশক্তি বৃদ্ধি করে: হজমের জন্য প্রয়োজন আঁশযুক্ত খাবার। মেটে আলুতে রয়েছে পরিমিত খাদ্যআঁশ, যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে: রক্তচাপ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে সোডিয়াম। গাছ আলুতে সোডিয়ামের মাত্রা একেবারেই কম। তবে এতে থাকা অন্যান্য খনিজ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা: এই আলুতে রয়েছে আয়রন ও ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখে।

ত্বকের ভালো রাখে: ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে ও বলিরেখা দূর করতে খাবারতালিকায় গাছ আলু রাখুন। যদিও এটি বছরের সব সময় পাওয়া যায় না, তবুও এটি ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে।

চুল পড়া কমায়: এই আলুতে রয়েছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, জিংক, নিয়াসিন ও আয়রন। এসব উপাদান চুল পড়া কমায়।

তথ্যসূত্র- হেলথ লাইন, হেলথ বেনিফিট টাইমস ও উইকিপিডিয়া।

১৪ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৪২পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।